Advertisement

Venezuela News: কোথাও তেলের খেলা, কোথাও ক্ষমতার, কেবল ভেনেজুয়েলায় নয় এই ১০টি দেশের 'কন্ট্রোলে' USA

শুধু ভেনেজুয়েলা নয়। আপাতত ১০টিরও বেশি দেশ নিজেদের 'কন্ট্রোলে' রেখেছে আমেরিকা। সংঘাত কেবল সামরিক নয়। কোথাও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, কোথাও কূটনৈতিক চাপ, আবার কোথাও সরাসরি প্রাকৃতিক সম্পদের দখল ঘিরে লড়াই। লক্ষ্য একটাই; রাশিয়া, চিন ও উত্তর কোরিয়ার মতো শক্তিধর দেশগুলিকে দুর্বল করা।

একসঙ্গে ১০টিরও বেশি দেশে নানা ‘মোর্চা’ খুলে রেখেছে আমেরিকা।একসঙ্গে ১০টিরও বেশি দেশে নানা ‘মোর্চা’ খুলে রেখেছে আমেরিকা।
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 06 Jan 2026,
  • अपडेटेड 11:36 PM IST
  • আপাতত ১০টিরও বেশি দেশ নিজেদের 'কন্ট্রোলে' রেখেছে আমেরিকা। 
  • কোথাও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, কোথাও কূটনৈতিক চাপ, আবার কোথাও সরাসরি প্রাকৃতিক সম্পদের দখল ঘিরে লড়াই।
  • লক্ষ্য একটাই; রাশিয়া, চিন ও উত্তর কোরিয়ার মতো শক্তিধর দেশগুলিকে দুর্বল করা।

শুধু ভেনেজুয়েলা নয়। আপাতত ১০টিরও বেশি দেশ নিজেদের 'কন্ট্রোলে' রেখেছে আমেরিকা। সংঘাত কেবল সামরিক নয়। কোথাও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, কোথাও কূটনৈতিক চাপ, আবার কোথাও সরাসরি প্রাকৃতিক সম্পদের দখল ঘিরে লড়াই। লক্ষ্য একটাই; রাশিয়া, চিন ও উত্তর কোরিয়ার মতো শক্তিধর দেশগুলিকে দুর্বল করা।

ট্রাম্প চান পুরনো বিশ্বব্যবস্থার জায়গায় নতুন এক ব্যবস্থা গড়ে তোলা। বলাই বাহুল্য, সেই সিস্টেমে আমেরিকাই হবে সর্বশক্তিমান। ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেন’ স্লোগানকে সামনে রেখে তিনি ইতিহাসে নিজের জায়গা পাকা করতে চান। অর্থনৈতিক লাভ, সামরিক ক্ষমতায় এক নম্বর হওয়া এবং বিশ্ব জুড়ে প্রভাব বিস্তার; এই তিন লক্ষ্যেই এগোচ্ছে তাঁর প্রশাসন।

জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল (NSS) ২০২৫-এর ভিত্তিতে ২০২৫-২৬ সালে একাধিক অঞ্চলে সংঘাত বাড়ানো হয়েছে। দক্ষিণ আমেরিকায় ভেনেজুয়েলা সবচেয়ে বড় উদাহরণ। ৩ জানুয়ারি ২০২৬ মাদুরোকে গ্রেফতারের ঘটনায় সামনে আসে আমেরিকার ভূমিকা। অভিযোগ, মাদক পাচারের অজুহাত দেখালেও আসল লক্ষ্য তেলের উপর নিয়ন্ত্রণ। রাশিয়া ও চিনের ঘনিষ্ঠ এই দেশকে দুর্বল করাই উদ্দেশ্য। কিউবা ও নিকারাগুয়ার উপরও নিষেধাজ্ঞা জোরদার করা হয়েছে, যাতে সেখানে রুশ সামরিক ঘাঁটি গড়ে না ওঠে।

ইউরোপে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত অব্যাহত। ইউক্রেনকে অস্ত্র দেওয়া এবং রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে ওয়াশিংটন। পাশাপাশি জার্মানি ও ফ্রান্সের মতো দেশগুলিকে প্রতিরক্ষা খরচ বাড়ানোর চাপ। না বাড়ালে সেনা প্রত্যাহারের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। পোল্যান্ড ও বাল্টিক দেশে ন্যাটো সেনা মোতায়েন বেড়েছে। তুরস্কের সঙ্গে এস-৪০০ কেনা নিয়ে টানাপড়েন চলছে।

এশিয়ায় চিনকে ঘিরে কৌশল আরও কড়া। দক্ষিণ চিন সাগরে সামরিক মহড়া, তাইওয়ানকে অস্ত্র সরবরাহ এবং বাণিজ্য যুদ্ধে শুল্ক; সবই চলছে একসঙ্গে। উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় নিষেধাজ্ঞা জারি, যদিও কিম জং উনের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা থামেনি। ফিলিপিন্স, ভিয়েতনাম ও জাপানকে নিয়ে জোট গড়ে চিনকে ঘিরে ফেলার কৌশল। ভারতের সঙ্গে ইন্দো-প্যাসিফিক অংশীদারিত্ব থাকলেও বাণিজ্য নিয়ে মতবিরোধ স্পষ্ট।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি ভেঙে নিষেধাজ্ঞা, গাজা যুদ্ধে ইজরায়েলকে সমর্থন, সিরিয়া ও ইরাকে আইএসআইএস-এর নাম করে সেনা মোতায়েন; সব মিলিয়ে রাশিয়া ও ইরানকে চ্যালেঞ্জ। আফ্রিকায় সোমালিয়ায় ড্রোন হামলা, নাইজেরিয়া ও কঙ্গোয় গৃহযুদ্ধে হস্তক্ষেপ; উদ্দেশ্য চিনা বিনিয়োগ ঠেকানো।

Advertisement

এই সবের পাশাপাশি তেল, সোনা ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজের খোঁজে নামা হয়েছে। ভেনেজুয়েলার ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল তেল, আর্কটিক অঞ্চলের খনিজ, কঙ্গোর কোবাল্ট বা চিলির লিথিয়াম; সবই আমেরিকার ‘এনার্জি ডমিনেন্স’ নীতির অংশ।

সব মিলিয়ে ট্রাম্পের লক্ষ্য স্পষ্ট; ‘গ্রেট পাওয়ার কম্পিটিশন’-এ আমেরিকাকে শীর্ষে রাখা। তবে এই কৌশল বিশ্বকে কোথায় নিয়ে যাবে, তা নিয়েই বাড়ছে অনিশ্চয়তা। বিশ্বব্যবস্থা বদলের এই চেষ্টায় শক্তি প্রদর্শনের রাজনীতি যেমন তীব্র হচ্ছে, তেমনই আন্তর্জাতিক অস্থিরতার আশঙ্কাও ক্রমশ গভীর।

Read more!
Advertisement
Advertisement