
ভারত আমেরিকার ট্রেড ডিল ফাইনাল হয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে এর ফ্রেমওয়ার্ক। এমন পরিস্থিতিতে আমেরিকার পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হচ্ছে যে রাশিয়ার থেকে তেল কিনবে না ভারত। বরং এখন থেকে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কিনবে বলে ঘোষণা করা হচ্ছে। আর এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই প্রশ্ন করছেন যে এতে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হবে না তো? নরেন্দ্র মোদী এবং ভ্লাদিমির পুতিনের বন্ধুত্ব অটুট থাকবে তো? এই প্রসঙ্গে রাশিয়ার ডেপুটি বিদেশমন্ত্রী সের্গেই রাবকভ একটি বড় দাবি করে ফেলেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তির জন্য নয়াদিল্লি-মস্কোর সম্পর্কে কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।
আমেরিকা নিজের জন্য সব কিছু চায়
এই ডিল প্রসঙ্গ সের্গেই দাবি করেন, ভারতে সবার জন্য জায়গা রয়েছে। তবে আমেরিকা নিজের ছাড়া কারও কথা ভাবে না। তাঁর মতে, শুল্ক চাপানোর মাধ্যমে আমেরিকা সবার উপরে চাপ বাড়াতে চাইছে। যেটা একবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ভারত এবং রাশিয়ার মধ্যেও বাণিজ্য হচ্ছে
আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করেছে ভারত। তার মানে এটা নয় যে রাশিয়া ব্রাত্য থেকে যাচ্ছে। রাশিয়ার সঙ্গেও নয়াদিল্লির ভালই ব্যবসা হচ্ছে বলে সের্গেই জানিয়েছেন। তিনি বলেন, 'আমি মনে করছি ভারত এবং আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তি ভারত-রাশিয়া সম্পর্কে কোনও প্রভাব ফেলবে না।' পাশাপাশি ভারত-রাশিয়া বাণিজ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, 'আমাদের দুই দেশের মধ্যেই বিরাট পরিমাণে ব্যবসা হয়। এই বাণিজ্য আরও বাড়তে চলেছে। তাই আমি বিশ্বাস করি যে ভারতে সবার জন্যই জায়গা রয়েছে।'
আমেরিকার নীতিই ভুল
রাশিয়ার ডেপুটি বিদেশমন্ত্রী সের্গেই আমেরিকার নীতিরও নিন্দা করেছেন। তিনি বলেন, 'আমেরিকার সবথেকে বড় সমস্যা হল তারা সব কিছু নিজেদের জন্য চায়। অন্যদের জন্য কিছু চায় না। এটা খুবই খারাপ নীতি।' তাই আমেরিকা শুল্ক চাপায় বলে তাঁর মত। আর এই কারণেই সের্গেই চান সব দেশই যেন নিজের ক্ষমতায় উঠে আসে।
ইতিমধ্যেই ট্রাম্প BRICS গোষ্ঠীর দেশগুলিকে অ্যান্টিওয়েস্টার্ন বলে দাগিয়ে দিয়েছেন। যদিও এই গোষ্ঠীর সব দেশকে একত্রিত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সের্গেই। তিনি মনে করেন, ব্রিকস কোনওভাবেই পাশ্চত্য বিরোধী কোনও সংগঠন নয়। তেমন কিছু হয়ে ওঠার ইচ্ছেও নেই। এই গোষ্ঠী চায় সামনে যেই সব সমস্যাগুলি রয়েছে, তার সমাধান করার।