
ভেনেজুয়েলায় আমেরিকার সরাসরি এয়ারস্ট্রাইকের পর ৪৮ ঘণ্টাও অতিক্রম করেনি। তার আগেই আরও বড় পরিকল্পনা করে ফেলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক বক্তব্যে উঠে আসছে, নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর আমেরিকা এখন অন্যান্য দেশগুলিতেও নিজেদের প্রভাব বিস্তার করার প্ল্যান শুরু করেছে।
ফের একবার ডেনমার্কের অধীনস্থ অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের উপর মার্কিন নিয়ন্ত্রণের দাবি নিয়ে সরব হয়েছেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, ওই এলাকায় রাশিয়া ও চিনা জাহাজের তৎপরতা আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, ট্রাম্প কলম্বিয়া সম্পর্কে দাবি করেছেন, বিশ্বব্যাপী কোকেন বাণিজ্যর ক্ষেত্রে কলম্বিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যদি পরিস্থিতির পরিবর্তন না হয়, তাহলে আমেরিকা সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বিবেচনা করতে পারে।
পাশাপাশি মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, কিউবার কমিউনিস্ট সরকার বর্তমানে "গুরুতর সমস্যায়" রয়েছে। ফলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এরপর কিউবার উপরও চাপ বাড়াতে পারে আমেরিকা।
ভেনেজুয়েলার পর পরবর্তী টার্গেট কে?
ভেনেজুয়েলার পর একাধিক দেশ ভাবতে শুরু করেছে ট্রাম্পের পরবর্তী টার্গেট কে? সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প খোলাখুলি ভাবে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডের বোঝা উচিত যে ভেনেজুয়েলায় এই সব কাজের ভিত্তিতে আমেরিকা কী বার্তা দিতে চাইছে।
গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়: ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী
ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড নিয়ে দাবির পরেই এই মন্তব্যের নিয়ে তীব্র বিরোধিতা করেছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী। মেটে ফ্রেডেরিকসেন স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়। এটিকে নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করার কোনও অধিকার আমেরিকার নেই।
অন্যদিকে, ইতিমধ্যেই ডেনমার্ক ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি বক্তব্যকে সমর্থন করেছে। যেখানে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ তার জনগণের দ্বারা নির্ধারিত হওয়া উচিত। এমন একটা সময়ে এই বিবৃতি দেওয়া হয়েছে, যখন ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলছেন, আমেরিকা কিছুদিনের জন্য ভেনেজুয়েলা শাসনে ভূমিকা পালন করবে। ফলে আন্তর্জাতিক আইন এবং বৈশ্বিক ভারসাম্যের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের নীতিগুলি এখন বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে।