
ইরানে বিক্ষোভ ঘিরে অশান্তি অব্যাহত। গত এক সপ্তাহ ধরে মুদ্রাস্ফীতি, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বৃ্দ্ধি, অর্থনৈতিক সঙ্কট ঘিরে আন্দোলন মাথাচারা দিয়ে উঠেছে ইরানের রাজপথে। বিক্ষোভে শামিল হয়েছেন হাজার হাজার জনতা। এরইমধ্যে গত তিন-চারদিনে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দাবি করা হচ্ছে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের খণ্ডযুদ্ধে মৃত্যু হয়েছে ৭ জনের। এরমধ্যে একজন নিরাপত্তারক্ষীও রয়েছেন। এছাড়াও, আহত হয়েছেন আরও প্রায় ২০ জন। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন প্রায় ৩০ জন।
কেন বিক্ষোভ দেখানো হচ্ছে?
ইরানের সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মূল কারণ লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি ও আর্থিক সঙ্কট। ডিসেম্বর মাসে দেশে মুদ্রাস্ফীতি পৌঁছেছে প্রায় ৪২.৫ শতাংশে। তার উপর ২০২৫ সালে ডলারের তুলনায় ইরানি রিয়ালের মূল্য প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। পশ্চিমি নিষেধাজ্ঞা, পরমাণু পরিকাঠামো ও সামরিক নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে ইজরায়েল-আমেরিকার হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কী ভাবে বিক্ষোভের সূচনা হল?
ঘটনার প্রথম সূত্রপাত হয়েছিল ২৭ ডিসেম্বর। ওই দিন রাজধানী তেহরানের কিছু দোকানদার মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ দেখাতে শুরু করেছিলেন। এরপরেই আগামী ২-১ দিনের মধ্যেই দেশের অন্য প্রান্তে বিক্ষোভের আঁচ ছড়িয়ে পড়ে। এই আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন বিভিন্ন ইউনিভার্সিটির পড়ুয়ারাও। রাজপথে শুরু হয় বিক্ষোভ। ফলে সব মিলিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছে আয়াতোল্লা আলি খামেনেই সরকার।
মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে সরকারের কী প্রতিক্রিয়া?
ব্যাপক আন্দোলনের সামনে দাঁড়িয়ে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের নেতৃত্বাধীন ইরান সরকার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চাওয়ারও ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে তা এখনও হয়নি। অন্যদিকে, পেজেশকিয়ান কার্যত মেনে নিয়েছেন যে, ১ ডলারের দাম এখন প্রায় ১৪ লক্ষ রিয়ালের কাছাকাছি। আর এই মুহূর্তে রিয়ালের অবক্ষয় রোধের কোনও উপায় সরকারের হাতেও নেই।
তেহরান আক্রমণের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
এমন পরিস্থিতিতেই ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, যদি ইরান গুলি চালিয়ে ও হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের দমাতে চায়, তাঁদের খুন করতে চায়, তবে আমেরিকা তাঁদের উদ্ধারে এগিয়ে আসবে। এরপর একধাপ এগিয়ে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, "আমাদের অস্ত্র তৈরি রয়েছে। আক্রমণ করার জন্য প্রস্তুত রয়েছি।"