
মার্কিন ভিসা নীতিতে বড় ধাক্কা খেল ইউনূসের বাংলাদেশ। বাংলাদেশ-সহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত করল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশের বর্তমান 'বন্ধু রাষ্ট্র' পাকিস্তান। এছাড়া নাম রয়েছে রাশিয়া, আফগানিস্তান, ইরান, ইরাক, নাইজেরিয়া এবং ব্রাজিলের। ওই তালিকায় নেই ভারতের নাম। এই নির্দেশিকা কার্যকর হবে ২১ জানুয়ারি থেকে। অনির্দিষ্টকালের জন্য তা বলবৎ থাকবে।
ট্রাম্প সরকার জানিয়েছে, এই তালিকায় সেই সব দেশের নাম রয়েছে, যাদের নাগরিকরা আমেরিকায় গিয়ে সরকারি সহায়তা নেন। তার মোকাবিলায় আবেদনকারীদের যাচাই প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনতে চলেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র টমি পিগট জানান, মার্কিন জনগণের ভালোমানুষির সুযোগ তুলছে অনেকে। তাঁদের ঠেকাতেই বহু প্রতীক্ষিত পদক্ষেপ করছে আমেরিকা।
কেন বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ?
চলতি মাসেই ট্রুথ সোশ্যালে একটি তালিকা প্রকাশ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 'ইমিগ্র্যান্ট ওয়েলফেয়ার রেসিপিয়েন্ট রেটস বাই কান্ট্রি অব অরিজিন' শীর্ষক ওই তালিকায় ছিল, কোন দেশের নাগরিকরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সবচেয়ে বেশি সরকারি সহায়তা নিয়েছেন। সেখানে ১৯তম স্থানে ছিল বাংলাদেশ। পাকিস্তান ৬০তম। ওই তালিকা অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বাংলাদেশি অভিবাসীদের ৫৪.৮ শতাংশ সরকারি সুবিধে নিয়েছেন। শীর্ষ ভুটান। ওই দেশের ৮১.৪ শতাংশ অভিবাসী মার্কিন সরকারের জনকল্যাণ প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন।
নভেম্বরেই ভিসার নিয়ম কঠোর
২০২৫ সালের নভেম্বরে একটি নির্দেশিকা জারি করে জানানো হয়, স্বাস্থ্য, বয়স, ইংরেজি ভাষার দক্ষতার অভাব এবং আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে ভিসা প্রত্যাখ্যান করতে পারবেন দূতাবাসের কর্মীরা। বয়স্ক বা অতিরিক্ত ওজনের আবেদনকারীদেরও ভিসা প্রত্যাখ্যান করা যেতে পারে। যাঁরা অতীতে সরকারি সহায়তা পেয়েছেন বা দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে, তাঁদেরও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য হল, মার্কিন নাগরিকদের করের টাকায় আর সে দেশে আরামে থাকা যাবে না।