
Trump tariffs stopped: মার্কিন প্রেসিডেন্টের খামখেয়ালি আচরণে অধৈর্য্য মার্কিন আদালতও। ঐতিহাসিক রায়ে ট্রাম্পের শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। এর ফলে বাধ্য হয়েই এবার ট্যারিফ কমাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (CBP) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে নয়া নীতি জারি হচ্ছে। ইন্টারন্যাশনাল এমার্জেন্সি ইকনমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট (IEEPA) অনুযায়ী আর কোনও ট্যারিফ আদায় করা হবে না। ইতিমধ্যেই আমদানি সংক্রান্ত সমস্ত ট্যারিফ কোড তাদের ডিজিটাল সিস্টেম থেকে ডিসেবল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বড় ধাক্কা
গত ২০ ফেব্রুয়ারি মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়। তাতে বলা হয় যে, ট্রাম্প প্রশাসন জরুরি ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই ট্যারিফ আরোপ করেছিল। আদালতের মতে, IEEPA আইনের আওতায় এই ধরনের ব্যাপক আমদানি শুল্ক আরোপ করার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নেই। ফলে ট্রাম্পের আরোপিত এই শুল্ক আইনত অবৈধ বলে ঘোষণা করা হয়।
এই রায়ের ফলে ট্রাম্পের ট্যারিফ স্ট্র্যাটেডি কার্যত মাঠে মারা পড়ল। ট্রাম্পের ট্যারিফের ফলে বিশ্বজুড়ে সাপ্লাই চেন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কাঠামোয় বড় পরিবর্তন এসেছিল।
প্রতিদিন আদায় হত কোটি কোটি ডলার
অর্থনীতিবিদদের হিসাব অনুযায়ী, এই ট্যারিফের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি ডলার পর্যন্ত রাজস্ব আদায় করত মার্কিন প্রশাসন। সব মিলিয়ে এখন তাদের প্রায় ১৭৫ বিলিয়ন ডলারের ট্যারিফ রেভেনিউ বন্ধ হওয়ার মুখে। কারণ, এই ট্যারিফ বেআইনি ঘোষিত হওয়ায় আমদানিকারীরা সেই টাকা ফেরতেরও দাবি তুলতে পারেন।
তবে এখনও পর্যন্ত মার্কিন প্রশাসনের তরফে ট্যারিফ ফেরত দেওয়া হবে কিনা, সেই বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি।
সব ট্যারিফ বন্ধ হচ্ছে না
তবে এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র IEEPA আইনের আওতায় আরোপিত ট্যারিফের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। ট্রাম্প জমানায় জাতীয় নিরাপত্তা বা Section 232 এবং Section 301 আইনের আওতায় যে ট্যারিফ আরোপ করা হয়েছিল, তা এখনও বহাল থাকবে।
ফলে এখনই যে পুরোপুরি শুল্কমুক্ত হয়ে যাচ্ছে, তাও বলা যাবে না।
নতুন করে ১৫ শতাংশ ট্যারিফ ঘোষণা ট্রাম্পের
এই রায়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন পদক্ষেপ ঘোষণা করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি Section 122 আইনের আওতায় বিশ্বজুড়ে সমস্ত আমদানির উপর ১৫ শতাংশ নতুন ট্যারিফ আরোপের ঘোষণা করেন।
প্রথমে এই রেট ১০ শতাংশ রাখা হলেও পরে তা বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়। উল্লেখযোগ্য বিষয়টি হল, এই আইন আগে কোনও প্রেসিডেন্ট ব্যবহার করেননি। এই আইনের আওতায় ১৫০ দিনই ট্যারিফ নেওয়া যাবে। তার বেশিদিন ধরে ট্যারিফ চালু রাখতে হলে কংগ্রেসের(সেদেশের পার্লামেন্টের) অনুমোদন প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নতুন ট্যারিফ নিয়েও আইনি লড়াই শুরু হতে পারে।
চিন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া সহ এশিয়ার বড় অর্থনীতিতে প্রভাব
সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে চিন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং তাইওয়ানের মতো এশিয়ার তাবড় রফতানিকারী দেশগুলি সরাসরি প্রভাবিত হবে। এই দেশগুলি দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্পের ট্যারিফ নীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল।
বিশেষ করে প্রযুক্তি, ইলেকট্রনিক্স এবং উৎপাদন শিল্পে এই সিদ্ধান্তের বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা
এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একদিকে পুরনো ট্যারিফ বন্ধ হচ্ছে, অন্যদিকে নতুন ট্যারিফ চালু করা হচ্ছে। ফলে আমদানিকারক এবং রফতানিকারক উভয় পক্ষের মধ্যেই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় শুধু আমেরিকার বাণিজ্য নীতিতেই নয়, বিশ্ব অর্থনীতির উপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।