
ইরান থেকে তেল কিনবে না ভারত। তার পরিবর্তে ভেনেজুয়েলা থেকে আমদানি করবে, দাবি করলেন আমেরিকার রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবার ফ্লোরিডা যাওয়ার পথে সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি বলেন, 'আমরা ইতিমধ্যেই একটা চুক্তি করেছি। ভারত এবার থেকে ইরানের বদলে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কিনবে। সেই বিষয়ে কেমন চুক্তি হতে পারে, তা নিয়ে একটা ধারণা তৈরি করেছি।'
এক সময় ইরান থেকে অনেক তেল আমদানি করত ভারত। তবে মধ্যপ্রাচ্যের ওই দেশের উপর আমেরিকা নিষেধাজ্ঞা জারির কারণে মোদী সরকার তেল আমদানি কমিয়ে দেয়। তারইমধ্যে এখন ট্রাম্প দাবি করল, USA-র ইঙ্গিত অনুসরণ করে ভারত ভেনেজুয়েলা থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা শুরু করবে।
এও জানা যাচ্ছে, আমেরিকার নেতারা ট্রাম্পের ইচ্ছে মতো চাইছেন, ভারত যেন রাশিয়া থেকে তেল কেনার পরিবর্তে ভেনেজুয়েলা থেকেই সব আমদানি করে। তবে এই নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান এখনও জানা যায়নি।
এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজ শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে কথা বলেছেন। জ্বালানি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে বলে নেতারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছেন। এতে ভারত ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে সম্পর্ক নয়া উচ্চতা পাবে বলে আশা করছে দুই দেশের সরকার। এরইমধ্যে ট্রাম্পের আরও দাবি, চিনও নাকি ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কেনার বিষয়ে আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা করতে পারে।
প্রসঙ্গত, গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় আক্রমণ চালিয়ে সেখানকার রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করে আমেরিকা। তাঁকে ও তাঁর স্ত্রী-কে আমেরিকায় বন্দি করে নিয়ে আসে। ট্রাম্প সরাসরি জানান, তাঁর লক্ষ্য হল ভেনেজুয়েলার তেলের খনি। তারপর থেকে বিশ্বের নানা দেশকে ভেনেজুয়েলার তেল কেনার প্রস্তাব দিতে থাকে। এরপরই ভারত কথা বলে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে।
ভারত এক সময় ওই দেশ থেকে লক্ষ লক্ষ ব্যারেল তেল কিনত। যা কারাকাসের মোট আমদানির অর্ধেক ছিল। তবে আমেরিকা নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর থেকে ভারতের বাণিজ্য কমে যায়। কারণ, সেই সময় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সেই দেশ থেকে তেল কিনলে ভারতের খরচ অনেক বেড়ে যেত।