Advertisement

Russia-America : ইউক্রেন আর গ্রিনল্যান্ড তো ঢাল, ফের কি ঠান্ডা লড়াইয়ের দিকে এগোচ্ছে আমেরিকা-রাশিয়া?

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চার বছর ধরে যুদ্ধ চলছে। রাশিয়া চায়, ইউক্রেনের আনুষ্ঠানিক সম্মতি নিয়ে ডনবাস ও ক্রিমিয়াকে নিজেদের দখলে আনতে। অন্যদিকে নিজেদের মধ্যস্থতাকারী বলে দাবি করলেও এলাকা সম্প্রসারণ করতে চাইছে আমেরিকা।

ফের কি ঠান্ডা লড়াইয়ের দিকে এগোচ্ছে আমেরিকা ও রাশিয়া? ফের কি ঠান্ডা লড়াইয়ের দিকে এগোচ্ছে আমেরিকা ও রাশিয়া?
Aajtak Bangla
  • দিল্লি ,
  • 14 Jan 2026,
  • अपडेटेड 7:43 PM IST
  • রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চার বছর ধরে যুদ্ধ চলছে
  • রাশিয়া চায়, ইউক্রেনের আনুষ্ঠানিক সম্মতি নিয়ে ডনবাস ও ক্রিমিয়াকে নিজেদের দখলে আনতে

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চার বছর ধরে যুদ্ধ চলছে। রাশিয়া চায়, ইউক্রেনের আনুষ্ঠানিক সম্মতি নিয়ে ডনবাস ও ক্রিমিয়াকে নিজেদের দখলে আনতে। অন্যদিকে নিজেদের মধ্যস্থতাকারী বলে দাবি করলেও এলাকা সম্প্রসারণ করতে চাইছে আমেরিকা। এই পরিস্থিতিতে ইউরোপ মহাদেশের বহু দেশ নীরব। আমেরিকা না রাশিয়া- কে কার পক্ষ নেবে তা নিয়ে দোলাচলে রয়েছে দেশগুলো। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন তাহলে কি ফের কোল্ড ওয়ারের দিকে এগোচ্ছে বিশ্ব? 

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে যখন মস্কো ক্রিমিয়া আক্রমণ করেছিল তখন ভ্লাদিমির পুতিনের অবস্থান স্পষ্ট ছিল। আশা করেছিলেন, ক্রিমিয়ার মতো ডনবাসও তিনি দখল করে নেবেন। রাশিয়ার ক্রিমিয়া দখলকে আন্তর্জাতিক মঞ্চ স্বীকৃতি না দিলেও পুতিন তার পরোয়া করেননি। বরং ভেবেছিলেন, যেহেতু ডনবাসের বৃহৎ অংশের মানুষ রুশ ভাষায় কথা বলে, সেহেতু ওই অঞ্চলের দখল নেওয়া সহজ হবে। স্থানীয়দের সমর্থন পাবেন। এই অঞ্চল দখল করার পর ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ হবে বলেও মনে করেছিবেন পুতিন। 

কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের সঙ্গে সঙ্গে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয় ইউরোপজুড়ে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন আশঙ্কা করে, ডানবস দখল করে ক্ষান্ত থাকবে না রাশিয়া। তারা অন্য দেশের দিকেও হাত বাড়াবে। সেই আশঙ্কা থেকেই ইউক্রেনকে আর্থিক সাহায্য পাঠাতে শুরু করে ইউনিয়নের দেশগুলো। এমনকী আমেরিকাও ইউক্রেনকে সাহায্য করতে শুরু করেছিল। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আজও ইউক্রেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের সহযোগিতাতেই রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। তাঁদের আরও দাবি, আপাতদৃষ্টিতে এই যুদ্ধ ইউক্রনের বিরুদ্ধে হলেও রাশিয়া বনাম পশ্চিমা বিশ্বের। 

যদিও যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই আমেরিকা দুই দেশের মধ্যে শান্তি স্থাপনের জন্য মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করছে। অনেকে দাবি করছেন, ট্রাম্প এমনভাবে চুক্তি করতে চাইছেন যা রাশিয়ার শর্তকে পূরণ করে। যদি জেলেনস্কি সেই দাবি মেনে নেন তাহলে ইউক্রেনের একটা বড় অংশ রাশিয়ার সঙ্গে জুড়ে যাবে। তবে তারপরও পুতিন যে রণে ভঙ্গ দেবেন এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই। 

Advertisement

আগ্রাসী হয়ে উঠেছে আমেরিকাও 

রাশিয়া ও ইউক্রেনের এই সমস্যা নিয়ে যখন ইউরোপ জর্জরিত তখন ট্রাম্পও গ্রিনল্যান্ডের দাবিতে সরব হয়ে উঠেছেন। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প মজা করে বলেছিলেন, তিনি চাইলে কানাডাকে আমেরিকার ৫১ তম রাজ্যে পরিণত করতে পারেন। তবে এখন তিনি পনামা ও গ্রিনল্যান্ড অধিকারের দাবিতে সরব হয়েছেন। 

আসলে পানামা খাল আমেরিকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যে জাহাজগুলো দ্রুত যাতায়াত করতে পারে। ফলে এই রুটটি হাতে থাকলে আমেরিকার বাণিজ্য আরও ফুলে-ফেঁপে উঠবে। সেজন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট সেদিকেই হাত বাড়াতেই পারেন। 

অপরদিকে গ্রিনল্যান্ড বরফে ঢাকা দেশ। কার্যত জনবসতিহীন। তবে কৌশলগত দিক থেকে এই দেশ আমেরিকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। গ্রিনল্যান্ডে খনিজ সম্পদ রয়েছে। বরফ গলে গেলে সমুদ্রপথও খুলে যায়। তাতে আমেরিকার ব্যবসা আরও বাড়বে। আবার গোটা বিশ্বে এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ হল চিন ও রাশিয়া। যদি গ্রিনল্যান্ডকে আমেরিকা দখল করতে পারে তাহলে চিন ও রাশিয়া অনেকটা পিছিয়ে পড়বে। 

আমেরিকা ও রাশিয়ার এমন আচরণ থেকে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ফের হয়তো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী অবস্থা তৈরি হতে পারে। সেক্ষেত্রে গোটা বিশ্বের মধ্যে বিভাজন দেখা যাবে। কেউ পক্ষ নেবে রাশিয়ার আবার কেউ আমেরিকার। 

ঠান্ডা লড়াই বা Cold War-এর আগের পরিস্থিতিও ঠিক আজকের মতোই ছিল বলে মত আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের। ভয়ে বা আর্থিক কারণে তখন ইউরোপ-সহ গোটা বিশ্বের অধিকাংশ দেশ আমেরিকা বা রাশিয়ার পক্ষ নিতে বাধ্য হয়েছিল প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে। তবে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর ঠান্ডা লড়াইয়ের অবসান হয়। যদিও তখনও রাশিয়া শক্তিশালী ছিল। কিন্তু, আমেরিকা বহুল অর্থসাহায্য করতে শুরু করে নানা দেশকে। এভাবে রাশিয়ার গুরুত্ব কমতে থাকে। 

১৯৯০-এর দশকে আরও পরিবর্তনের সাক্ষী বিশ্ব

আমেরিকা ও রাশিয়ার দ্বন্দ্ব শেষ হওয়ার পরে বিশ্বের বাকি দেশগুলো হাঁফ ছেড়ে বাঁচে। ইউরোপের দেশগুলো আমেরিকা ও রাশিয়ার কব্জা থেকে বেরিয়ে এসে শক্তিশালী হওয়ার চেষ্টা করে। আসরে নামে ভারত ও চিনের মতো এশীয় দেশগুলোও। বহু দেশ পরমাণু শক্তিধর হয়ে ওঠে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে উন্নতি করতে থাকে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ফলে এই পরিস্থিতিতে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে না। কারণ, সব দেশই জানে প্রতিপক্ষের শক্তি। এক দেশ পরমাণু শক্তি প্রয়োগ করলে বাকিরা ছেড়ে কথা বলবে না।   

তবে সম্প্রতি ফের বিশ্বের রাজনৈতিক চেহারা পরিবর্তনের দিকে এগোচ্ছে বলে দাবি করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ। কারণ, ইউক্রেনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে রাশিয়া। পিছু হঠছে না আমেরিকাও। তবে এবারের আর এক প্রতিপক্ষ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে চিনও। সেক্ষেত্রে সমীকরণ কী হবে, সেটাই দেখার।     

Read more!
Advertisement
Advertisement