
ইরানে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই যুদ্ধটি গত ৪০ দিন ধরে চলছিল। এই পরিস্থিতিতে ২ সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সময়ের মধ্যে ইরানে আর হামলা চালাবে না আমেরিকা এবং ইজরায়েল। এমনকী সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতির কথা চলবে পাকিস্তানে। আর এই ঘোষণার পরই সারা বিশ্বে খুশির হাওয়া। যুদ্ধ শেষের পথে পৃথিবী অনেকটাই এগিয়ে গেল বলে মনে করা হচ্ছে।
এ দিকে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হতেই লাফাচ্ছে শেয়ারবাজার। সারা পৃথিবীর মার্কেটেই আজ খুশির হওয়া। লাফাচ্ছে সেনসেক্স, নিফটিও।
যদিও এরই মধ্যে ট্রাম্পের পদত্যাগের দাবি আরও বাড়ছে। আমেরিকার সেনেটর ক্রিস মার্ফির মতে, ইরান যুদ্ধবিরতির অর্থ হল আমেরিকার সারেন্ডার। তিনি আমেরিকার টেলিভিশন চ্যানেল সিএনএন-এ এই দাবি করেছেন, এবার থেকে হরমুজ প্রণালীর পুরো নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেবে ইরান।
তাঁর মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি ইরানের কোনও শর্ত মেনে নেয়, তাহলেই হরমুজের কন্ট্রোল নেবে ইরান। আর এটা সারা পৃথিবীর জন্যই খারাপ খবর হবে বলে মনে করেন তিনি।
আর শুধু ক্রিস মার্ফি নন, আমেরিকার হাউজ অব রিপ্রেজেন্টিটিভের সদস্য গিয়েই মুরেও আমেরিকার প্রেসিডেন্টের নিন্দা করেছেন। তিনি দাবি করেন, আমেরিকার কংগ্রেস যেন ট্রাম্পকে ইমপিচ করে। তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে যোগ্য নন।
তাঁর মতে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ট্রাম্পকে অফিস থেকে বের করে দিতে হবে। তিনি দাবি করেন, এই সময় রিপাবলিকানদের উচিত ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ট্রাম্পের অদ্ভুত নীতি শেষ করা।
এই বিষয়টা নিয়ে মুখ খুলেছেন আমেরিকার প্রাক্তন অ্যান্টি টেরর চিফ জোয়। তিনি বলেন, 'আমাদের উচিত ইরানকে নিয়ন্ত্রণে রাখা। এটাই আমাদের প্রথম কাজ হওয়া উচিত।'
যদিও এই সব বিষয়কে পাত্তা দিতে নারাজ হোয়াইট হাউজ। বরং এই যুদ্ধবিরতিকে তিনি জয় হিসেবেই দেখছেন।
এই প্রসঙ্গে হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিটট বলেন, 'এটা আমেরিকার একটি জয়। এটা আমাদের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং অসাধারণ সেনার জন্যই সম্ভব হয়েছে।' তিনি আরও দাবি করেন, অপারেশন এপিক ফিউরির শুরুর সময় থেকেই ট্রাম্প জানতেন এই যুদ্ধ ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ চলতে পারে। যদিও আমেরিকার সেনার অসাধারণ কাজকর্মের জন্য মাত্র ৩৮ দিনে যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছনো সম্ভব হয়েছে। যদিও এসবের মাঝেই আবার ট্রাম্পের পদত্যাগের দাবি উঠছে।