Advertisement

Why Does Trump Want Greenland: কেন গ্রিনল্যান্ড দখল করতে মরিয়া ট্রাম্প? সহজে বুঝে নিন

ফিরে যাওয়া যাক ২০১৯ সালে। সেই বছর ২০ জানুয়ারি হোয়াইট হাউসে পা রেখেই ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের প্রসঙ্গে তুলেছিলেন। গ্রিনল্যান্ডের দিকে যে তাঁর চোখ রয়েছে, প্রেসিডেন্ট হয়েই বুঝিয়ে দেন।

কেন গ্রিনল্যান্ড দখল করতে চাইছেন ট্রাম্পকেন গ্রিনল্যান্ড দখল করতে চাইছেন ট্রাম্প
Aajtak Bangla
  • নয়াদিল্লি,
  • 19 Jan 2026,
  • अपडेटेड 5:42 PM IST
  • কেন গ্রিনল্যান্ড দখল করতে চাইছেন ট্রাম্প?
  • গ্রিনল্যান্ডে কত সম্পদ?
  • ট্রাম্পের এই আগ্রাসী অ্যাকশনে কী বলছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী?

ভেনেজুয়েলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নজরে গ্রিনল্যান্ড। বরফাবৃত এই ছোট্ট সুন্দর দ্বীপটিতে মাত্র ৫৭ হাজার মানুষের বসবাস। মাছ ধরাই মূলত জীবিকা। এহেন গ্রিনল্যান্ড দখলে নিলে আমেরিকার কি লাভ হবে? ভেনেজুয়েলা খনিজ তেলে সমৃদ্ধ একটি দেশ। সেই তেলের লোভে ট্রাম্প সস্ত্রীক নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতার করে তুলে এনেছেন। কিন্তু গ্রিনল্যান্ড? ডেনমার্ক ইতিমধ্যেই ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে, গ্রিনল্যান্ডের দিকে তাকালে প্রথমে গুলি চলবে, তারপর বাকি কথা হবে। এখন প্রশ্ন হল, কেন গ্রিনল্যান্ড দখল করতে চাইছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র?

কেন গ্রিনল্যান্ড দখল করতে চাইছেন ট্রাম্প?

ফিরে যাওয়া যাক ২০১৯ সালে। সেই বছর ২০ জানুয়ারি হোয়াইট হাউসে পা রেখেই ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের প্রসঙ্গে তুলেছিলেন। গ্রিনল্যান্ডের দিকে যে তাঁর চোখ রয়েছে, প্রেসিডেন্ট হয়েই বুঝিয়ে দেন। NATO বাহিনীর অন্যতম সদস্য ডেনমার্কের মেম্বারশিপে গ্রিনল্যান্ডও NATO-তে রয়েছে। ইউরোপ থেকে উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে ছোট পথটি উত্তর মেরুর এই দ্বীপের উপর দিয়ে যাওয়ায়, গ্রিনল্যান্ড মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী এবং তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইল আগাম সতর্কতা ব্যবস্থার জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

ড্যানিশ ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের গবেষক ও গ্রিনল্যান্ড বিশেষজ্ঞ উলরিক প্রাম গ্যাডের বক্তব্য, গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরের কাছেই। ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহাগেন বরং অনেকটা দূরে। খনিজ, তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসে ঠাসা গ্রিনল্যান্ড। কিন্তু এই দ্বীপের উন্নয়ন ভীষণ ধীরস্থির। খুব উন্নত কিছু নয়। ভৌগলিক ভাবে গ্রিনল্যান্ড উত্তর আমেরিকা মহাদেশের অন্তর্গত ভূখণ্ড। তাই দ্বীপটিতে অন্য কোনও বড় শক্তির উপস্থিতি তৈরি হতে না দেওয়াই মূল লক্ষ্য আমেরিকার। এছাড়া পশ্চিম গোলার্ধে নিজেদের আধিপত্য বাড়ানোরও চেষ্টা করছেন ট্রাম্প।

তা হলে ট্রাম্প কি গ্রিনল্যান্ড দখলের জন্য সেনা পাঠাতে পারেন? এই প্রশ্নে সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে এক বিশেষজ্ঞ জানাচ্ছেন, একদা রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্ভবত সেনা পাঠিয়ে গ্রিনল্যান্ড দখলের চেষ্টা করবেন না। বরং ঘুরপথে হাঁটবেন তিনি। যেমন, ডেনমার্কের উপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানো, ট্যারিফ চাপানো অথবা কৈটনৈতিক চাপ তৈরি করার। অন্য অপশন খুঁজবেন তিনি। 

Advertisement

গ্রিনল্যান্ডে কত সম্পদ?

২০২৩ সালের সার্ভে রিপোর্ট অনুযায়ী, শিল্পে ব্যবহারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে ৩৪টি বিশেষ কাঁচামাল রয়েছে, তার মধ্যে ২৫টি পাওয়া যায় গ্রিনল্যান্ডে। ব্যাটারি তৈরির কাঁচামাল, যেমন গ্রাফাইট, লিথিয়াম। পাশাপাশি EV ও উইন্ড টারবাইনে ব্যবহৃত রেয়ার আর্থ উপাদানও এতে অন্তর্ভুক্ত। তবে পরিবেশগত উদ্বেগের কারণে গ্রিনল্যান্ডে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বলে জানাচ্ছে রয়টার্সের প্রতিবেদন। গ্রিনল্যান্ডের আদিবাসীরা মূলত চান না, প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হোক ওই দ্বীপে। যার ফলে গ্রিনল্যান্ডের অর্থনীতির মূল ভিত্তি হল, মাছের ব্যবসা। ৯৫ শতাংশ সামুদ্রিক মাছ রফতানি করে গ্রিনল্যান্ড। এছাড়াও ডেনমার্ক সরকারের থেকে বার্ষিক আর্থিক সাহায্যও পায়। গ্রিনল্যান্ডের অর্ধেক বাজেটের বরাদ্দ আসে ডেনমার্ক সরকারের থেকেই। ট্রাম্পের দাবি, 'গ্রিনল্যান্ডের মানুষই চাইছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের দায়িত্ব নিক তাঁদের। আমরা ওঁদের সুরক্ষিত করব, উন্নয়ন ঘটাবো। মেক গ্রিনল্যান্ড গ্রেট এগেইন।'

ট্রাম্পের এই আগ্রাসী অ্যাকশনে কী বলছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী?

গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মিউট এগেডে স্পষ্ট জানাচ্ছেন, এই দ্বীপ বিক্রির জন্য নয়। ডেনমার্কের বিদেশমন্ত্রীর কথায়, 'আমরা পুরোপুরি স্বীকার করি, গ্রিনল্যান্ডের নিজস্ব লক্ষ্য ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে। সেগুলি বাস্তবায়িত হলে গ্রিনল্যান্ড স্বাধীন দেশ হয়ে উঠবে। তবে আমেরিকার কোনও ফেডারেল রাজ্য হওয়ার মতো কোনও ইচ্ছা তাদের নেই বলেই মনে করা হচ্ছে।'

Read more!
Advertisement
Advertisement