Advertisement

US Attacked on Venezuela : ভেনেজুয়েলায় কেন হামলা করল আমেরিকা? সহজ ব্যাখ্যা

একের পর এক বিমান হামলা চালিয়ে কার্যত ভেনেজুয়েলার দখল নিয়েছে আমেরিকা। সেই দেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, তাঁরাই আপাতত ভেনেজ়ুয়েলার শাসন ক্ষমতা দখল করেছেন।

Nicolás Maduro,Donald TrumpNicolás Maduro,Donald Trump
Aajtak Bangla
  • দিল্লি ,
  • 04 Jan 2026,
  • अपडेटेड 2:53 PM IST
  • ভেনেজুয়েলায় কেন হামলা করল আমেরিকা?
  • এই বিরোধের সূত্রপাত কবে থেকে ?

একের পর এক বিমান হামলা চালিয়ে কার্যত ভেনেজুয়েলার দখল নিয়েছে আমেরিকা। সেই দেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, তাঁরাই আপাতত ভেনেজ়ুয়েলার শাসন ক্ষমতা দখল করেছেন। আধিপত্য বিস্তার করেছেন। প্রসঙ্গত, ১৯৮৯ সালে পানামা আক্রমণের পর থেকে এটাই ল্যাটিন আমেরিকায় সবচেয়ে বড় মার্কিন হস্তক্ষেপ।

এই হামলার পর থেকে অনেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা শুরু করেছেন। খনিজ সম্পদের উপর কব্জা করতেই এই হস্তক্ষেপ বলে দাবি করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তবে কেউ কেউ আবার এটাও বলছেন,ভেনেজুয়েলায় বছরের পর বছর ধরে এক নায়কতন্ত্র চালাচ্ছিলেন নিকোলাস মাদুরো। তাঁর আমলেই সেই দেশের ধনী আরও বেশি ধনী হয়েছে। গরিব মানুষ আরও গরিব। তাই মাদুরোর পতন প্রয়োজন ছিল। 

আমেরিকা ও ভেনেজুয়েলার দ্বন্দ্বের সূত্রপাত বুঝতে গেলে পিছিয়ে যেতে হবে আরও ১০ বছর আগে। ভেনেজুয়েলা বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অপরিশোধিত তৈলভাণ্ডার। ২৫ বছর ধরে সমাজতান্ত্রিক সরকার দ্বারা দেশটি পরিচালিত হচ্ছিল। ২০১৩ সালে জনপ্রিয়, সদা হাস্যোজ্জ্বল, বিতর্কিত হুগো স্যাভেজের মৃত্যুর পর আসনে বসেন তাঁরই শিষ্য নিকোলাস মাদুরো।  স্যাভেজের সময়ও আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক ভালো ছিল না ভেনেজুয়েলার। তবে মাদুরো ক্ষমতায় আসার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে যায়। তার কারণ আমেরিকা মাদুরো সরকারকে 'মাদক রাষ্ট্র' বলে অভিযোগ করেছিল। যা ভালোভাবে নেয়নি ভেনেজুয়েলা। 

স্বাভাবিকভাবেই আমেরিকা ভেনেজুয়েলার ঘোষিত প্রতিপক্ষ ছিল। মাদুরো মনে করেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন তাঁদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে ও দেশ দখলের জন্য হাত বাড়িয়ে রয়েছে। তখন মাদুরো প্রকাশ্যে আমেরিকার বিরোধিতা শুরু করেন। 

আমেরিকাকে প্রতিপক্ষ ঘোষণা করে দিলেও নিজের দেশ সামলাতে ব্যর্থ হন মাদুরো। তাঁর দেশেই তাঁকে জনগণের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়ে। লাখ লাখ মানুষ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। 

তেল-সম্পদ ও ভূ-রাজনীতি

Advertisement

আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, ট্রাম্পের এই হামলার পিছনে লক্ষ্য হল ভেনেজুয়েলার তেলভাণ্ডার দখল ও তার উপর নিয়ন্ত্রণ। সেই দেশে বিশ্বের বৃহত্তম অতিরিক্ত ভারী তেল মজুত আছে। আর তা কব্জা করতে পারলে অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী হবে আমেরিকা। 

যদিও বর্তমানে সেই দেশ আর আগের মতো তেল রপ্তানি করতে পারে না। কারণ, আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা। ২০০৪ সালে আমেরিকা ভেনেজুয়েলার সঙ্গে ব্যবসায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। তারপর থেকে চিন, রাশিয়া ও ভারতের মতো দেশের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়িয়ে দেয় মাদুরোর দেশ। তা ভালোভাবে নেয়নি মার্কিন প্রশাসন। 

অথচ এমনটা আগে ছিল না। আমেরিকার সঙ্গে একসময় বাণিজ্যিক সম্পর্ক মজবুত ছিল ভেনেজুয়েলার। তবে সেই দেশে খনিজ সম্পদের প্রাচুর্যের কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভয় পেয়ে যায়, এমনটাই দাবি করেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, খনিজ সম্পদ বেশি থাকার অর্থই হল অর্থনৈতিকভাবে ফুলে ফেঁপে ওঠা। তা মেনে নিতে চায়নি আমেরিকা। ১৯৯৯ সালে হুগো স্যাভেজ ক্ষমতা গ্রহণের আগে প্রতিদিন ৩.৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদন হত সেই দেশে। তা রপ্তানি করা হত বিদেশে। ভেনেজুয়েলায় প্রাকৃতিক গ্যাসেরও ভাণ্ডার আছে। দক্ষিণ আমেরিকায় যে পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস রয়েছে, তার ৭৩ শতাংশ রয়েছে শুধু ভেনেজুয়েলায়। সেটাও ভাবিয়েছিল আমেরিকাকে। তারা চাপও দিতে থাকে মাদুরোকে। 

এদিকে আমেরিকার চাপের কাছে মাথা নত না করেই মাদুরো সোনা এবং কোল্টান সমৃদ্ধ অরিনোকো মাইনিং আর্কের খনির কাজ শুরু করে। তখন আমেরিকা দাবি করে,  এই অঞ্চলটি অবৈধ খনি-খাদান। এখান থেকে  সম্পদ উৎপাদিত হলে তা চোরাচালানকারী এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে চলে যাবে। ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। আমেরিকার কাছে তেল বিক্রি না করার সিদ্ধান্ত নেয় ভেনেজুয়েলা। 

এরপরই আমেরিকা বিস্ফোরক অভিযোগ করে। সেই দেশের আধিকারিকরা দাবি করেন, নিকোলাস মাদুরো ড্রাগস পাচারে সহযোগিতা করতেন। তাঁদের দেশ মাদক-কারবারীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। পাল্টা ভেনেজুয়েলা জানায়, ট্রাম্পের লক্ষ্য ছিল ভেনুজুয়েলা দখল ও সেখানে তাদের পুতুলের হাতে ক্ষমতা সঁপে দেওয়া। 

এরপর ২০২০ সালে আমেরিকা দাবি করে বসে, ভেনেজুয়েলার প্রেসডেন্ট মাদক পারাচকারীও। তিনি নিজেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মাদক-পাচারে যুক্ত। 

বিতর্কিত ভোট এবং সংকট

২০২৪ সালের জুলাই মাসে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়। সেই ভোটে জেতেন মাদুরো। তবে প্রতিপক্ষদের দমন-পীড়ন ও সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। বিশ্বের অনেক দেশ মাদুরোর নির্বাচনকে অবৈধ ঘোষণা করে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে যখন শপথ নেন তখন আমেরিকা মাদুরোকে অবৈধ শাসক ঘোষণা করে। ফলে দুই দেশের মধ্যে সঙ্কট বাড়ে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, সেই তখন থেকেই পরিষ্কার হয়ে যায় আমেরিকা হামলা চালাবে ভেনেজুয়েলায়।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement