ইরান যুদ্ধের মেঘ এবং বিশ্ববাজারে তেলের আকাশছোঁয়া দামের জেরে পাকিস্তানে জ্বালানি তেলের মূল্য এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) পাকিস্তান সরকার ডিজেল ও পেট্রোলের দামে বড়সড় বৃদ্ধির ঘোষণা করেছে, যা গত এক মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বার। নতুন ঘোষণায় ডিজেলের দাম ৫৪.৯ শতাংশ বাড়িয়ে প্রতি লিটার ৫২০.৩৫ রুপি এবং পেট্রোলের দাম ৪২.৭ শতাংশ বাড়িয়ে ৪৫৮.৪০ রুপি করা হয়েছে। পাকিস্তানের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী আলি পারভেজ মালিক এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ইরান ও আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। ফলে এই মূল্যবৃদ্ধি ছিল অনিবার্য। তিনি আরও জানান, গত তিন সপ্তাহে সরকার ১২৯ বিলিয়ন রুপি ভর্তুকি দিলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা আর বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশটির সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। লাহোর ও করাচির বাসিন্দারা এই মূল্যবৃদ্ধিকে 'অবিচার' ও 'দরিদ্র নিধন' বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। গত মাসেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের জেরে জ্বালানির দাম ২০ শতাংশ বাড়িয়েছিল পাকিস্তান। মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালী দিয়ে সৌদি আরব ও আরব আমিরাত থেকে তেল আমদানি করে দেশটি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক অভিযান জোরদার করার ইঙ্গিত দিতেই বৃহস্পতিবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক লাফে ১১ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে। এই চরম মূল্যবৃদ্ধি পাকিস্তানে মুদ্রাস্ফীতিকে আরও ভয়াবহ পর্যায়ে নিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।