
রাত পোহালেই অসমে বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। তার আগেই বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা গরুর মাংস খাওয়ার বিষয়ে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করলেন। হিমন্ত বলেছেন, তিনি এটি নিষিদ্ধ করতে চাইছেন না, বরং ব্যক্তিগত পরিসরে এর ব্যবহার সীমিত রাখতে চান।
সাংবাদিকদের সামনে হিমন্ত বলেন, 'অসমে একটি বড় মুসলিম সম্প্রদায় রয়েছে যারা গরুর মাংস খান। আমি এটা বন্ধ করছি না। আমি শুধু বলছি, এটা নিজের বাড়ির ভেতরে খান। জনসমক্ষে খাবেন না।' তবে অসমের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, এই ধরনের খাওয়া দাওয়া বাড়ির মধ্যেই হওয়া উচিত, জনসমক্ষে নয় এবং আইন অনুযায়ী কোনও মন্দিরের ৫ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যেও নয়।
প্রসঙ্গত, অসমে গবাদি পশু সংরক্ষণ আইন, ২০২১, ব্যক্তিগতভাবে গরুর মাংস খাওয়াকে নিষিদ্ধ করে না, কিন্তু রেস্তোরাঁসহ সর্বসাধারণের স্থানে এবং মন্দির ও সত্র (অসমের ঐতিহ্যবাহী বৈষ্ণব মঠ)-এর ৫ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে এর বিক্রি ও খাওয়া নিষিদ্ধ।
হিমন্ত আরও বলেছেন, কিছু লোক গরুর মাংসের পরিবর্তে মহিষের মাংস খাওয়া শুরু করেছে এবং তাঁর এই আবেদন মুসলমানদের উদ্দেশ্যে নয়, বরং হিন্দুদের উদ্দেশ্যেই ছিল। উল্লেখ্য, অসমে এই নির্বাচনী মরসুমে গরুর মাংস খাওয়া অন্যতম প্রধান বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে, যেখানে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা তাঁর আক্রমণ আরও তীব্র করছেন এবং রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও উস্কে দিচ্ছেন।
গত সপ্তাহান্তে, অসম জাতীয় পরিষদ (AJP) প্রার্থী কুঙ্কি চৌধুরির বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে গরুর মাংস খেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তার ছবি শেয়ার করার অভিযোগে মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেন। হিমন্ত বলেন, 'নির্বাচনের পর আমি গবাদি পশু সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী তাঁর বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। আমি সবকিছু মেনে নেব, কিন্তু গরুর মাংস খাওয়া নয়।'
তবে গুয়াহাটি সেন্ট্রাল বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রথমবারের মতো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাওয়া কুঙ্কি চৌধুরি এই দাবিগুলোকে ভুয়ো ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে বারবার অস্বীকার করেছেন। তাঁকে ও তার পরিবারকে লক্ষ্য করে এআই-নির্মিত ডিপফেক ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগ তুলে তিনি পুলিশের কাছে একটি অভিযোগও দায়ের করেছেন। প্রসঙ্গত, ১২৬ সদস্যের অসম বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে এবং ফলাফল ঘোষণা করা হবে ৪ মে।