
২০২৬ সালে অসমে বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী সেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। 'Panchayat Aaj Tak Assam' মঞ্চে অসমের রাজনীতি, সামাজিক পরিস্থিতি এবং আসন্ন নির্বাচনের কৌশল নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি।
‘শেষ ভোট না পড়া পর্যন্ত চূড়ান্ত কথা বলা উচিত নয়’
নির্বাচন প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হিমন্ত বলেন,'শেষ ভোট না পড়া পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত মন্তব্য করা উচিত নয়। কারণ কিছু সিদ্ধান্ত জনগণের উপরই ছেড়ে দেওয়া ভালো। তবে আমাদের দায়িত্ব হল প্রতিটি কাজে ১০০ শতাংশ দেওয়া, আমি সেটাই করছি। যদিও তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, এই নির্বাচনে জয় আমাদেরই হবে।'
গৌরব গগৈকে ঘিরে বিতর্কে মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া
গৌরব গগৈকে নিয়ে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,
তাঁদের পক্ষ থেকে যা বলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে। তিনি বলেন, যদি তাঁদের অভিযোগ ভুল হতো, তাহলে মানহানির মামলা করা হতো।
তিনি আরও বলেন, যদি কেউ কাউকে পাকিস্তানের এজেন্ট বলেন এবং সেটি ভুল হয়, তাহলে আদালতে যাওয়ার সুযোগ তো রয়েছে। তাহলে এত কথা কেন উঠছে। আদালতেই মিমাংসা হওয়া উচিত।
পাকিস্তান সফর প্রসঙ্গে প্রশ্ন উঠলে তিনি বলেন,'পাকিস্তানে যাওয়া আমার কাছে বড় অপরাধের মতো। যে দেশের সঙ্গে ভারত তিনটি যুদ্ধ করেছে এবং যেখানে দেশের বহু সেনা প্রাণ দিয়েছেন, সেই দেশে অবস্থিত জেলায় ভিসা ছাড়া যাওয়া হলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে।'
গ্রেফতার করা হয়নি কেন?
SIT রিপোর্ট সেপ্টেম্বরেই পাওয়া গিয়েছিল, তবু কেন গ্রেফতার করা হয়নি? এই প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,'নির্বাচনের ঠিক আগে কাউকে গ্রেফতার করা তাঁর কাছে ঠিক মনে হয়নি। ১০ সেপ্টেম্বর রিপোর্ট পাওয়ার সময় অসমে পরিস্থিতি সংবেদনশীল ছিল এবং সেই সময় বিষয়টি তুললে বড় ইস্যু থেকে দৃষ্টি ঘোরানোর অভিযোগ উঠতে পারত।'
‘কিডনি দেবেন, কিন্তু ভোট দেবেন না’
মিয়া মুসলিম সম্প্রদায় নিয়ে নিজের এক মন্তব্য প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,'অনেকেই আমাকে খুব ভালোবাসেন এবং বলেন, প্রয়োজন হলে কিডনি পর্যন্ত দেবেন, কিন্তু ভোট দেবেন না।'
বদলে গেছে ডেমোগ্রাফি
মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, অসমের প্রায় ১২টি জেলায় এমন এলাকা রয়েছে যেখানে সাধারণ মানুষের পক্ষে সহজে যাওয়া কঠিন। সেখানে জনসংখ্যার গঠন অনেকটাই বদলে গেছে। অনেক মানুষ বাংলাদেশ থেকে এসে বসবাস করছেন বলে তিনি দাবি করেন। ফলে সেখানে ভারত ও বাংলাদেশের সংস্কৃতির মিশ্রণ দেখা যায় এবং সেই এলাকায় গিয়ে প্রচার বা মানুষকে বোঝানো সহজ নয়।
তবে তাঁর দাবি, ব্যক্তিগতভাবে মিয়া মুসলিম সমাজের মা ও বোনেরা তাঁকে খুব ভালোবাসেন এবং তাঁকে ‘মামা’ বলে ডাকেন। মুখ্যমন্ত্রী হাসতে হাসতে বলেন, তাঁর বয়স এখন ৫৬। যখন তিনি ২৭ বছর বয়সে রাজনীতিতে এসেছিলেন, তখন মানুষ তাঁকে ভাই বা দাদা বলত। এখন মামা বলে, আর দশ বছর পরে হয়তো কাকা বলবে।
‘মহিলাদের প্রভাব বাড়লে বিজেপি ভোট পাবে’
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে যদি বুথে মহিলাদের প্রভাব বাড়ে, তাহলে বিজেপি ভোট পাবে। দাবি করেন, আগামী দশ বছরে পরিস্থিতি বদলালে মিয়া মুসলিম সমাজের মা ও বোনেরাও বিজেপিকে ভোট দেবেন।
পাঁচ বছরে বহু পুরনো ভুল সংশোধন
নিজের সরকারের কাজ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গত পাঁচ বছরে যত পুরনো ভুল সংশোধন করা সম্ভব ছিল, তা করা হয়েছে। বহু পরিবর্তন এসেছে এবং রাজ্যকে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
অর্থ বিতরণের অভিযোগ প্রসঙ্গে হিমন্ত জানান, সরকার যে অর্থ দিচ্ছে তা নতুন কিছু নয়। এটি ২০২০ সাল থেকে চলা সরকারি প্রকল্পের অংশ। নির্বাচন কমিশনের বিধিনিষেধের কারণে পরবর্তী দুই মাস অর্থ দেওয়া যাবে না বলে আগেই সেই অর্থ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।