
কিছু দিন পরেই অসমে বিধানসভা নির্বাচন। ভোটের ঠিক মুখে 'পঞ্চায়েত আজতক'-এর আসর। সেই আলোচনা সভায় আজ অর্থাত্ বৃহস্পতিবার হাজির ছিলেন প্রয়াত শিল্পী জুবিন গর্গের স্ত্রী। বিখ্যাত অসমীয়া গায়ক জুবিন গর্গের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। প্রথম অধিবেশনে তাঁর জীবনের নানা অজানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়। ঘটনার ছয় মাস পর এই প্রথম প্রকাশ্যে সেই দিনগুলির কথা বলেন গরিমা। কথা বলতে গিয়ে একাধিকবার আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি। জুবিন গর্গের সঙ্গে প্রথম দেখা থেকে শুরু করে তাঁদের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের নানা স্মৃতি এবং জীবনের ভয়ের মুহূর্ত, সবকিছুই ভাগ করে নেন তিনি।
৩০ বছরের একসঙ্গে পথচলা
বক্তব্য শুরু করার আগে গরিমা সাইকিয়া গর্গ ‘পঞ্চায়েত আজতক অসম’-এর মঞ্চকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, '১৯ সেপ্টেম্বরের ঘটনার পর এই প্রথম আমি প্রকাশ্যে কথা বলছি। জুবিন আর আমি প্রায় ৩০ বছর একসঙ্গে ছিলাম। এই ৩০ বছরে আমরা প্রতিটি মুহূর্ত একসঙ্গে কাটিয়েছি, প্রতিটি অনুভূতি ভাগ করে নিয়েছি। আজ সেই সব মুহূর্তই আমার কাছে স্মৃতি হয়ে রয়েছে।'
প্রথম দেখা ১৯৯৫ সালে
গরিমা জানান, তাঁর সঙ্গে জুবিন গর্গের প্রথম দেখা হয়েছিল ১৯৯৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। তিনি বলেন, 'আমি প্রথম ওকে আমার হস্টেলে দেখেছিলাম। তবে তার আগেই ‘অনামিকা অর মায়া’ অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছিল। আমি আগে ওর একটি সাক্ষাৎকার পড়েছিলাম, যেখানে ওর বাড়ির ঠিকানা ও পিন নম্বর ছিল। সেখান থেকেই আমি ওকে একটি চিঠি লিখেছিলাম। সেই চিঠি জোড়হাটে ওর বাড়িতে পৌঁছেছিল।' তিনি আরও জানান, একদিন রেকর্ডিং শেষ করে জুবিন নিজেই তাঁর হোস্টেলে দেখা করতে এসেছিলেন। তাঁর কথায়, '১১ সেপ্টেম্বর ১৯৯৫ থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমরা ৩০ বছর একসঙ্গে কাটিয়েছি। প্রথমে আমরা বন্ধু ছিলাম, তারপর প্রেমিক-প্রেমিকা, আর পরে স্বামী-স্ত্রী। এই ৩০ বছর আমাদের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময়।'
‘জুবিনের ভেতরে একটা শিশুর মতো সরলতা ছিল’
গরিমার কথায়, জুবিন গর্গের ভেতরে সবসময়ই একটি নিষ্পাপ শিশুর মতো স্বভাব ছিল। যেদিন প্রথম ওর সঙ্গে দেখা হয়েছিল, তখন ওর বয়স ছিল ২২ বছর। কিন্তু তখনও ওর ভেতরে একটা শিশুর মতো সরলতা ছিল, আর সেই স্বভাব শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ছিল। তিনি বলেন, বিয়ের পর তিনি খুব কাছ থেকে জুবিনের তারকাখ্যাতি দেখেছেন। কিন্তু বাড়িতে তিনি খুবই সাধারণ ও সরল জীবনযাপন করতেন। বাইরে মানুষের সঙ্গেও তিনি অত্যন্ত নম্রতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কথা বলতেন। তবে এই খোলামেলা স্বভাবের কারণেই অনেক সময় বিতর্ক তৈরি হত।
গরিমা বলেন, 'আমরা বাড়িতে সেই সব বিতর্ক নিয়ে আলোচনা করতাম। আমি ওকে বলতাম, সব কথা সব সময় বলা প্রয়োজন হয় না। মানুষ তোমার কথা শোনে, তোমাকে অনুসরণ করে। তাই মঞ্চে বা জনসমক্ষে ভেবেচিন্তে কথা বলা উচিত। মঞ্চ আমার কাছে বাড়ির মতো। আমি মঞ্চে মানুষের সঙ্গে ঠিক যেমন বাড়িতে কথা বলি, তেমনই কথা বলতে পারি। তারা তো আমারই মানুষ, তাদের কাছে আমি কিছু লুকবো কেন?'
সুপার হিরোদের ভীষণ ভালোবাসতেন
গরিমা আরও জানান, জুবিন গর্গের মধ্যে সবসময় শিশুসুলভ আনন্দ ছিল এবং তিনি সুপার হিরোদের ভীষণ ভালোবাসতেন। তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, ২০০২ সালে আমরা একসঙ্গে স্পাইডারম্যান দেখেছিলাম। পরের দিন বাড়িতে টেবিল, চেয়ার আর সোফা সাজিয়ে তিনি মাটি স্পর্শ না করে স্পাইডারম্যানের মতো সেগুলোর উপর লাফিয়ে লাফিয়ে চলার চেষ্টা করছিলেন।