
'ওরা বলছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি। গুজরাতে ইতিমধ্যেই বিধানসভায় বিষয়টি তোলা হয়েছে। কিন্তু এই আইন কার্যকর হলে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়বেন ST সম্প্রদায়ের মা-ভাইরা।' এমনটাই বললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার 'সংকল্প পত্রে' বাংলায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC) চালুর প্রতিশ্রুতি দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ক্ষমতায় এলে ৬ মাসের মধ্যে UCC কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দেন। তারপরই বিকেলে এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায় (Abhishek Banerjee)। তাঁর দাবি, এই আইন কার্যকর হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন তফসিলি জনজাতি সম্প্রদায়ের মানুষ। তাঁর অভিযোগ, জোর করে ধর্মীয় রীতি বা খাদ্যাভ্যাস চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে বিজেপি। তাঁর কথায়, 'এই রাজনীতি বাংলায় রফতানি করে পরিবর্তনের কথা বলছে ওরা। কিন্তু বাস্তবে বাংলার মানুষের জীবনে কোনও উন্নতি আনতে চায় না।'
এদিন দুপুরে অমিত শাহ জানান, ক্ষমতায় এলে ৬ মাসের মধ্যে বাংলায় UCC চালু করতে চায় বিজেপি (Bharatiya Janata Party)।
এই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি আসলে কী? তা কার্যকর হলে সাধারণ মানুষের জীবনে কী পরিবর্তন আসতে পারে?
UCC বা Uniform Civil Code এমন একটি আইন, যেখানে ধর্ম নির্বিশেষে দেশের সব নাগরিকের জন্য একটাই ব্যক্তিগত আইন প্রযোজ্য হবে। বর্তমানে বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, দত্তক নেওয়া; এই সব বিষয় বিভিন্ন ধর্ম অনুযায়ী আলাদা আইনে চালিত হয়। UCC চালু হলে সেই পৃথক আইনগুলির পরিবর্তে একটিই অভিন্ন আইন কার্যকর হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আইন নিয়ে মতভেদ দীর্ঘদিনের। একদিকে বিজেপি বলছে, এতে লিঙ্গবৈষম্য দূর হবে। আইনি স্বচ্ছতা বাড়বে। অন্যদিকে বিরোধীদের দাবি, এটি ভারতের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামোর উপর আঘাত হানতে পারে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু এবং জনজাতি সম্প্রদায়ের নিজস্ব রীতি-নীতির উপর প্রভাব পড়তে পারে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে সেই আশঙ্কারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। তাঁর মতে, 'মানুষের জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস বা ধর্মীয় প্রথা এসব ব্যক্তিগত বিষয়। এগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা গণতান্ত্রিক নয়।' তিনি আরও দাবি করেন, ভোটের আগে ইস্যু তৈরি করতেই এই ধরনের ঘোষণা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, বাংলার ভোটে UCC একটি বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। আগামী দিনে এই বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাব ভোটের রাজনীতিতে কতটা পড়বে, সেটাই এখন দেখার।