
একের পর এক সাপ্লিমেন্টারি ভোটার লিস্ট প্রকাশ করে চলেছে নির্বাচন কমিশন। সোমবার কমিশনের পক্ষ থেকে ষষ্ঠ সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশ করা হয়েছে। আর দুই ধাপে এই তালিকা সামনে আনা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
কমিশন সূত্রে যতদূর খবর, প্রায় তিন লক্ষ ভোটারের নাম রয়েছে ষষ্ঠ তালিকায়। যদিও কত নাম যে বাদ পড়েছে, এই বিষয়টা সম্পর্কে তেমন কিছুই বলা হয়নি।
প্রতিদিনই প্রকাশিত হচ্ছে লিস্ট
প্রথম সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশ করতে অনেকটা সময় লেগে গিয়েছিল কমিশনের। তারপর কমিশন সূত্রেই জানান হয়, দ্বিতীয় তালিকা প্রকাশের পর রোজই লিস্ট বের করা হবে। সেই মতোই চলছে কাজ। প্রতিদিনই ভোটার লিস্ট বেরচ্ছে। রবিবার পর্যন্ত সামনে আনা হয়েছিল চারটি তালিকা। আর, সোমবার একসঙ্গে দু'টি তালিকা প্রকাশ করে দিল কমিশন। তাতে ঝুলে থাকা নামের সংখ্যা অনেকটাই কমল বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
কেন সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট?
পশ্চিমবঙ্গে SIR প্রক্রিয়ায় নজিরবিহীন সব ঘটনা ঘটছে। সময় পেরিয়ে গেলেও প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নথির কোনও মীমাংসা হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ করে। তারা জানায়, নির্ধারিত সময় বের করে দিতে হবে ফাইনাল ভোটার লিস্ট। আর যাঁদের নামের মীমাংসা হয়নি, তাঁদের নাম থাকবে অ্যাডজুডিকেশন হিসেবে। এই সব ভোটারদের নথি যাচাই করবে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা। আর পুরো ব্যবস্থার তদারকিতে থাকবেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি।
সেই মতো ২৮ ফেব্রুয়ারি ফাইনাল লিস্ট বের করে কমিশন। সেই লিস্টে প্রায় ৬০ লক্ষ অ্যাডজুডিকেশন অবস্থায় ছিল। আর এই সব ভোটারদের নথি পরীক্ষার পরই অ্যাডজুডিকেশন লিস্ট বের করছে কমিশন। ভোটারদের নথি পরীক্ষার কাজটি করছেন প্রায় ৭০৫ জন বিচারক। তাঁরা কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির নির্দেশ মেনে কাজ করছেন।
প্রসঙ্গত, প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশিত হয় ২৩ মার্চ। তারপর শুক্রবার, অর্থাৎ ২৭ মার্চ সেকেন্ড লিস্ট বেরয়। এরপর জানান হয়, প্রতিদিনই বেরবে লিস্ট। আর সেই মতো পরপর তালিকা প্রকাশ করে চলেছে কমিশন। আর সোমবার ষষ্ঠ তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে ৩ লক্ষ নাম রয়েছে বলে খবর। যদিও কত নাম বাদ গিয়েছে, সেই বিষয়ে কোনও খবর সামনে আসেনি।
কত নামের নিষ্পত্তি হয়েছে?
কমিশন সূত্রে খবর, মোটামুটি ৪২ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে। সেই হিসেব অনুযায়ী, এখনও ১৮ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি বাকি। এখন দেখার কমিশন ঠিক কত তাড়াতাড়ি এই সব নামের নিষ্পত্তি করে দেয়। তার উপরই নির্ভর হবে, এই সব ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন কি না।