
তৃণমূলের সরকারের ১৫ বছরের শাসনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ৩৫ পাতার ‘চার্জশিট’ প্রকাশ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এই চার্জশিটে চিকেনস নেক করিডরের নিরাপত্তা তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির জন্য বিপন্ন হয়েছে বলে বড়সড় অভিযোগ রয়েছে।
চার্জশিটে বলা হয়েছে, উত্তরবঙ্গের সংকীর্ণ চিকেনস নেক করিডোরটির নিরাপত্তা তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কের রাজনৈতিক তোষণের জন্য বিপন্ন হয়েছে। জনবিন্যাসের পরিকল্পিত বিবর্তন যে ভাবে এই ভূখণ্ডের ভারসাম্য নষ্ট করেছে, তা ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক অশনিসঙ্কেত বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গে অনুপ্রবেশকে হাতিয়ার করেই জনবিন্যাস বদলানোর অবাধ ছাড়পত্র দিয়েছে তৃণমূল সরকার, অভিযোগ অমিত শাহের।
একইসঙ্গে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছর জানুয়ারিতে কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ইন্দো-বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া দেওয়ার লক্ষ্যে ৯টি সীমান্তবর্তী জেলার জমি অবিলম্বে BSF-এর হাতে তুলে দিতে হবে রাজ্য সরকারকে। অমিত শাহের অভিযোগ, স্বরাষ্ট্র সচিব থেকে শুরু করে তিনি নিজে এসে রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সে কথা জানালেও জমি দেওয়া হয়নি। অনুপ্রবেশের জন্য সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করান শাহ।
উল্লেখ্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য অতীতে একাধিকবারই এই অনুপ্রবেশের জন্য দায়ী করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণে থাকা BSF-কেই।
এর আগেও বাংলায় এসে চিকেনস নেক করিডোর নিয়ে বাংলায় এসে অমিত শাহ বলেন, 'উত্তরবঙ্গ এবং শিলিগুড়ি BJP-র দুর্ভেদ্য গড়। শিলিগুড়ি অঞ্চলকে গোটা দেশ ভালবাসে। শিলিগুড়ি উত্তরপূর্বে যাওয়ার রাস্তা। কিছু দিন আগে কয়েক জন দিল্লিতে স্লোগান তোলে, চিকেন নেককে বন্ধ করে দেবে। কেন বন্ধ করবে, কারও বাবার জমি নাকি! এটা ভারতের জমি, কেউ হাত লাগাতে পারবে না।'