
কলকাতা ও আসানসোলের পর পশ্চিমবঙ্গের তৃতীয় বৃহত্তম শহর শিলিগুড়ি। দার্জিলিং জেলায় অবস্থিত এই শহরটি জলপাইগুড়ির সঙ্গে ‘টুইন সিটি’ হিসেবেও পরিচিত। ১৯৫১ সালে গঠিত শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রটি দার্জিলিং লোকসভা আসনের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের একটি। শিলিগুড়ি পুরনিগমের ৩৩টি ওয়ার্ডের ১ থেকে ৩০ এবং ৪৫ থেকে ৪৭ দার্জিলিং জেলা বাকি ওয়ার্ডগুলি জলপাইগুড়ি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত। এই বিধানসভা পুরোপুরি শহরাঞ্চলভিত্তিক।
পূর্ব হিমালয়ের পাদদেশে মহানন্দা নদীর তীরে গড়ে ওঠা সিলিগুড়িকে উত্তর-পূর্ব ভারতের ‘গেটওয়ে’ বলা হয়। নেপাল, বাংলাদেশ ও ভুটানের আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে শহরটির অর্থনীতি ও সংস্কৃতিতে বহুমাত্রিক প্রভাব রয়েছে। একসময় সিকিম রাজ্যের অন...
কলকাতা ও আসানসোলের পর পশ্চিমবঙ্গের তৃতীয় বৃহত্তম শহর শিলিগুড়ি। দার্জিলিং জেলায় অবস্থিত এই শহরটি জলপাইগুড়ির সঙ্গে ‘টুইন সিটি’ হিসেবেও পরিচিত। ১৯৫১ সালে গঠিত শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রটি দার্জিলিং লোকসভা আসনের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের একটি। শিলিগুড়ি পুরনিগমের ৩৩টি ওয়ার্ডের ১ থেকে ৩০ এবং ৪৫ থেকে ৪৭ দার্জিলিং জেলা বাকি ওয়ার্ডগুলি জলপাইগুড়ি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত। এই বিধানসভা পুরোপুরি শহরাঞ্চলভিত্তিক।
পূর্ব হিমালয়ের পাদদেশে মহানন্দা নদীর তীরে গড়ে ওঠা সিলিগুড়িকে উত্তর-পূর্ব ভারতের ‘গেটওয়ে’ বলা হয়। নেপাল, বাংলাদেশ ও ভুটানের আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে শহরটির অর্থনীতি ও সংস্কৃতিতে বহুমাত্রিক প্রভাব রয়েছে। একসময় সিকিম রাজ্যের অন্তর্গত ছোট্ট গ্রাম হলেও, ব্রিটিশ আমলে সিলিগুড়ি হয়ে ওঠে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ কেন্দ্র। ১৮৮১ সালে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের সূচনা শহরের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়।
ভোটার সংখ্যার দিক থেকেও ধারাবাহিক বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২০২৪ সালে এই কেন্দ্রে নথিভুক্ত ভোটারের সংখ্যা ছিল ২ লক্ষ ৩৯ হাজারের বেশি। এর মধ্যে তফসিলি জাতির ভোটার ৮.৮৪ শতাংশ, তফসিলি উপজাতি ১.২৬ শতাংশ এবং মুসলিম ভোটার প্রায় ৬.২০ শতাংশ। শিলিগুড়ি সম্পূর্ণ শহরাঞ্চল হওয়ায় ভোটের লড়াইয়ে নাগরিক ইস্যুগুলির গুরুত্ব তুলনামূলক বেশি।
রাজনৈতিক ইতিহাসে শিলিগুড়ি একসময় ছিল বামেদের শক্ত ঘাঁটি। ১৯৭৭ থেকে ২০০৬ টানা সাতবার জয় পেয়ে CPI(M) শহরের রাজনীতিতে আধিপত্য বজায় রেখেছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাল্টেছে ছবিটা। ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস এই কেন্দ্রে জয় পেলেও, ২০১৬ সালে ফের বামফ্রন্ট ফিরে আসে। ২০২১ সালে প্রথমবার শিলিগুড়িতে খাতা খোলে বিজেপি। শঙ্কর ঘোষের জয়ে তৃণমূল পরাজিত হয় ৩৫ হাজারেরও বেশি ভোটে।
ভৌগোলিকভাবে শিলিগুড়ি ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। সিসমিক জোন–৪-এর অন্তর্গত এই শহর অতীতে একাধিক শক্তিশালী ভূমিকম্পের সাক্ষী। বর্ষাকালে মহানন্দা ও তিস্তা নদীর কারণে বন্যার আশঙ্কাও থাকে। তবুও চা, কাঠ, পর্যটন ও পরিবহণ, এই চার স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে শিলিগুড়ির অর্থনীতি। চা-বাণিজ্য, রেল ও সড়ক যোগাযোগ এবং পর্যটন শিল্প শহরের কর্মসংস্থানের বড় ভরসা।
ভোটার উপস্থিতির হার বরাবরই চোখে পড়ার মতো। ২০১৬ সালে ভোট পড়েছিল ৮০ শতাংশের বেশি। ২০২১ ও ২০২৪ সালেও ৭৫ শতাংশের আশেপাশে ভোটগ্রহণ হয়েছে। এই প্রবণতা স্পষ্ট করে যে শিলিগুড়ির ভোটাররা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সচেতন।
সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিজেপির শক্ত অবস্থান এবং বড় ব্যবধানের জয় তৃণমূলের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। ছোট দলগুলি লড়াইকে বহুমুখী করতে পারে, তবে বাম-কংগ্রেস জোটের প্রভাব সীমিত বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে সিলিগুড়িতে বিজেপি আপাতত এগিয়ে থাকলেও, শহরের রাজনীতিতে শেষ কথা এখনও বলা হয়নি।
Dr. omprakash mishra
AITC
Asok bhattacharya
CPI(M)
Nota
NOTA
Kakali majumdar (roy)
BSP
Habul ghosh
IND
Nintu dutta
RPI(A)
Chayan guha
AMB
Bhushan kumar soni
JD(U)
Dipti roy
SUCI
Chhotan saha
RPPRINAT
Bhaichung bhutia
AITC
Gita chatterjee
BJP
Nota
NOTA
Rabindra rai
GRAC
Haridas thakur
BSP
Mahendra kumar jain
JMM
Md. zafar eqbal
IND
Vishwjeet chatterji
AMB
Tanmay dutta
SUCI
Dasarath karmakar
ABHM