
অসমে বিজেপি-র প্রার্থীতালিকায় কংগ্রেসের দাপট! ১৯ মার্চ অসমে ৮৮টি আসনে প্রার্থীতালিকা ঘোষণা করেছে সে রাজ্যের শাসক দল বিজেপি। দেখা যাচ্ছে, কংগ্রেস ও স্থানীয় পার্টিগুলি ছেড়ে বিজেপি-তে যোগ দেওয়া নেতাদেরই আধিপত্য প্রার্থীতালিকায়। এমনকী যাঁরা বিজেপি দলটা করে আসছেন অসমে, তাঁদের সংখ্যা কম। বরং প্রাক্তন কংগ্রেসীদের সংখ্যা বেশি।
কম করে ৩০ জন প্রার্থী কংগ্রেস
বিজেপি-র প্রার্থীতালিকায় দেখা যাচ্ছে, কম করে ৩০ জন প্রার্থী কংগ্রেস, অসম গণপরিষদ ও স্থানীয় ছোট দল ছেড়ে বিজেপি-তে যোগ দিয়েছেন। তার মধ্যে শুধু কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপি-তে যোগ দেওয়া ১৯ জন প্রার্থী। খোদ মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মাই একদা কংগ্রেসে ছিলেন। এছাড়া জয়ন্ত মল্ল বড়ুয়া, পীযূষ হাজারিকা, অজন্ত নিয়োগ, রূপজ্যোতি কুর্মি, ভুপেন বোরা, প্রদ্যোত্ বরদলৈ সহ আরও বহু নেতা রয়েছেন,যাঁরা কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপি-তে যোগ দিয়েছেন।
প্রদ্যোত্ বরদলৈকে বিজেপি-তে যোগদান করিয়ে হিমন্ত বলেন, 'কংগ্রেস যা ইচ্ছে বলুক। কিন্তু আমাদের লক্ষ্য হল, কংগ্রেসের সব ভাল নেতাকে বিজেপি-তে নিয়ে আসা। অসম ও বিজেপি, দুইয়েই ভবিষ্যত্ উজ্জ্বল করা আমাদের লক্ষ্য। তাই আমরা ধীরে ধীরে সেই সব কংগ্রেস নেতাকে বিজেপি-তে আনব, যাঁরা সম্পদ।'
রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক শক্তি
বিজেপির প্রার্থী তালিকায় অন্তত ছ’জন এমন প্রার্থী রয়েছেন, যাঁদের শিকড় রয়েছে অসম গণপরিষদে। এই দলটি বিজেপির জোটসঙ্গী এবং অসমের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক শক্তি। উল্লেখযোগ্য নামগুলির মধ্যে রয়েছেন চন্দ্রমোহন পয়ওয়ারি এবং নবকুমার দোলে। এছাড়া বিজেপির তালিকায় এমন পাঁচজন নেতার নাম রয়েছে, যাঁরা ছোট আঞ্চলিক ও জনজাতি সংগঠন থেকে উঠে এসেছেন। এর মাধ্যমে আদিবাসী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে দলের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা স্পষ্ট।
জনভিত্তিকে প্রাধান্য প্রার্থী তালিকায়
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপির এই প্রার্থী তালিকায় এমন নেতাদেরই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, যাঁদের নিজস্ব শক্তিশালী জনভিত্তি রয়েছে। এঁদের অনেকেই আগে অন্য দল বা তৃণমূল স্তরের সংগঠন থেকে উঠে এসে পরে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। তাঁদের মতে, এটি অসমের বদলে যাওয়া রাজনৈতিক বাস্তবতারই প্রতিফলন, যেখানে নির্বাচনের আগে দলীয় আনুগত্য আগের মতো কঠোর নয়।