
বিধানসভা নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে বাংলার রাজনৈতিক আবহ। তারই মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় এবং উত্তর ২৪ পরগনার মিনাখাঁ, দুই জায়গায় পরপর হিংসাত্মক ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিস্ফোরণ ও খুন, এই দুই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে।
বুধবার রাতে ভাঙড়ের চালতাবেড়িয়া এলাকার বামনিয়ায় এক ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে আচমকাই বিস্ফোরণ ঘটে। আইএসএফের অভিযোগ, ওই বাড়িতে বোমা তৈরির কাজ চলছিল, সেই সময়ই বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনায় অন্তত একজনের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে, আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। যদিও কারও পরিচয় এখনও স্পষ্ট করেনি পুলিশ।
আইএসএফ নেতৃত্বের দাবি, বিস্ফোরণে নিহত ও আহতরা সকলেই তৃণমূলের স্থানীয় কর্মী-সমর্থক। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে এখনও তৃণমূলের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিস্ফোরণের পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, এমনকি এক এসএফআই কর্মীকে মারধরের অভিযোগও উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ বাহিনী।
অন্যদিকে, একই সময় উত্তর ২৪ পরগনার মিনাখাঁয় উদ্ধার হল এক তৃণমূল কর্মীর ক্ষত-বিক্ষত দেহ। মৃতের নাম মশিউর কাজি (৩৮), বাড়ি হাড়োয়া বিধানসভার গাংনিয়া গ্রামে। বুধবার ভোরে সোনাপুকুর শঙ্করপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ঝুঝুরগাছা গ্রামের রাস্তার ধারে তাঁর রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পরিবারের অভিযোগ, মশিউরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে। মৃতের ভাই জানান, দেহের অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে প্রথমে চিনতেই পারেননি। রাজনৈতিক শত্রুতার জেরেই এই খুন। স্থানীয়দেরও দাবি, মৃত ব্যক্তি সক্রিয় তৃণমূল কর্মী ছিলেন এবং আগের রাতেই তিনি কাজের কথা বলে বেরিয়েছিলেন।
দুই জেলার এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। একদিকে ভাঙড়ে বোমা বিস্ফোরণ, অন্যদিকে মিনাখাঁয় খুন। ভোটের আগে এই পরপর হিংসার ঘটনায় রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে।
পুলিশ দুই ঘটনারই তদন্ত শুরু করেছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও ঘটনায় স্পষ্টভাবে দায় স্বীকার বা সরকারি নিশ্চিত ব্যাখ্যা সামনে আসেনি। নির্বাচন যত এগোচ্ছে, ততই এই ধরনের অশান্তির ঘটনা বাড়বে কিনা, তা নিয়েই এখন চিন্তায় সাধারণ মানুষ।