
ভোটের প্রথম দফাকে ঘিরে প্রস্তুতি যত জোরদার হচ্ছে, ততই কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে পরিবহন সঙ্কটের আশঙ্কা বাড়ছে। নির্বাচন পরিচালনার স্বার্থে কমিশন বিপুল সংখ্যক বাস, ট্যাক্সি, পুল কারসহ বিভিন্ন যানবাহন অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
জানা গিয়েছে, ২৭ এপ্রিল থেকেই এই অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া ব্যাপক হারে শুরু হবে। ফলে শহরের রাস্তায় গণপরিবহনের সংখ্যা হঠাৎই অনেকটা কমে যেতে পারে। অফিসযাত্রী, ছাত্রছাত্রী এবং নিত্যযাত্রীদের দৈনন্দিন যাতায়াতে বড়সড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
প্রশাসনের এক কর্তা জানিয়েছেন, 'নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় যানবাহন অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। সেই অনুযায়ী সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।' তবে বাস্তবে এর জেরে যে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়তে পারে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বিভিন্ন মহলে।
পরিবহন সংগঠনগুলির তরফেও একই আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। এবারে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি যানবাহন নেওয়া হচ্ছে, ফলে রাস্তায় বাসের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। অন্যদিকে, ‘অনলাইন ক্যাব অপারেটরস গিল্ড’-এর সাধারণ সম্পাদক ইন্দ্রনীল বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, নির্বাচনী কাজে বিপুল সংখ্যক ট্যাক্সি ব্যবহৃত হওয়ায় যাত্রীদের জন্য ক্যাব পাওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
পুল কার পরিষেবার ক্ষেত্রেও একই সমস্যা দেখা দিতে পারে। পুল কার অপারেটরদের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, বহু গাড়ি নির্বাচনী দায়িত্বে চলে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পরিবহন পরিষেবা চালানো সম্ভব হবে না। এই পরিস্থিতিতে কিছু বেসরকারি স্কুল ইতিমধ্যেই বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছে।
নিউ টাউনের একটি বেসরকারি স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২৭ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত অনলাইন ক্লাস চালু রাখা হবে এবং ভোটের দিন ছুটি থাকবে। যেসব স্কুল ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে, সেগুলিও আগেভাগেই নির্বাচন কমিশনের অধীনে চলে আসবে, ফলে স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হবে।
উল্লেখ্য, ২৯৪ আসনের বিধানসভা নির্বাচন দুই দফায়, ২৩ ও ২৯ এপ্রিল, অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ৪ মে ভোট গণনা। তার আগে নির্বাচনী প্রস্তুতির এই চাপ সরাসরি প্রভাব ফেলতে চলেছে শহরের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায়।