
তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন CPIM নেতা প্রতীক উর রহমান। পতাকা নিয়েছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা 'নম্বর ২' অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে। আর তিনি ঘাসফুলে নাম লেখানোর পরই নিন্দার ঝড় উঠেছে। তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ার থেকে শুরু করে 'সাংসারিক দ্বন্দ্ব' নিয়েও কাটাছেঁড়া চলছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তবে এই আলোচনার অধিকাংশেরই কেন্দ্রে ছিলেন প্রতীক উর। এমনকী সিপিআইএম দল এবং তাদের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমকে নিয়েও ময়নাতদন্ত চলে।
তবে কয়েনের একটা উল্টো পিঠও রয়েছে। এই দিকে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। কারণ, অভিষেকের হাত ধরেই তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন প্রতীক। আর দলের সংগঠন সামলানো অভিষেক নিশ্চয়ই এমনি এমনি এই কাজটা করেননি। এর পিছনে নিশ্চয়ই কোনও বড় অঙ্ক রয়েছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।
এখন প্রশ্ন হল, তৃণমূলে তো ফিরহাদ হাকিম থেকে শুরু করে ত্বহা সিদ্দিকি বা সিদ্দিকুল্লার মতো বড় বড় সংখ্যালঘু নাম রয়েছে, তাহলে হঠাৎ কেন প্রতীক উরকে নিতে এত উদ্যোগী হল দল? এর পিছনে অঙ্কটা ঠিক কী? বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতো, এটা কোনও হঠকারী সিদ্ধান্ত নয়। এর পিছনে রয়েছে 'সুপরিকল্পনা'।
প্রথম কারণ
আসলে ত্বহা সিদ্দিকী বা সিদ্দিকুল্লার মতো নেতাদের একটি ধর্মীয় পরিচয় রয়েছে। তাঁরা ধর্মীয় কথায় মন জয় করেন। এটাই তাঁদের ইউএসপি। তবে সংখ্যালঘু মানুষের একটা বড় অংশ কিন্তু আর শুধু এই সব ধরনের কথা শুনতে নারাজ। তাঁরাও শিক্ষা, চাকরি নিয়ে আলোচনা চান। আর এখানেই তৃণমূলের তুরুপের তাস হতে পারেন প্রতীক উর। এতদিন পর্যন্ত শিক্ষা, কর্মসংস্থান, বঞ্চনা নিয়ে কথা বলে এসেছেন প্রতীক উর। তিনি স্বচ্ছ মুখ। তাঁর বিরুদ্ধে কোনও দুর্নীতির অভিযোগ নেই। তাই তিনি সংখ্যালঘু যুব সমাজের একাংশের কাছে খুব কাছের নেতা। এই নেতাকে দেখেই তাঁরা স্বপ্ন দেখে জীবনে উন্নতি করার। আর তাঁদের ঘাসফুলের কাছে টানতেই এবার প্রতীক উর ঝাঁপাবেন বলে খবর।
দ্বিতীয় কারণ
আবার আরও একটি মত হল, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় তৃণমূলের বিরাট সংগঠন রয়েছে। তবে ছাত্র-যুবদের মধ্যে নিজেদের উপস্থিতি আরও বাড়াতে চাইছিল তৃণমূল। আর সেই কাজে তারা হাতিয়ার করবে প্রতীক উরকে। বিশেষত, সংখ্যালঘু ছাত্র-যুবদের একাট্টা করে হুমায়ুন, আইএসএফকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে চাইছে ঘাসফুল। এই কাজে তারা প্রতীক উরকে ব্যবহার করবে।
আসলে তারা কোনও সংখ্যালঘু ভোটকেই আর বাম বা অন্য কোনও দলের দিকে যেতে চাইছে না। এককভাবে আধিপত্য বজায় রাখতে চাইছে। এই হল আরও একটি অঙ্ক।
তৃতীয় কারণ
আলোচকদের অন্দরে আরও একটি মতও ভেসে বেড়াচ্ছে। আর সেই আলোচনাতে দল নয়, বরং বড় হয়েছে 'অভিষেক-মমতা ইকুয়েশন'। এই মতানুযায়ী, মমতার হাত ধরে উঠে আসা সংখ্যালঘু নেতাদের অধিকাংশেরই ধর্মীয় আইডেন্টিটি রয়েছে। আর এখানেই নিজেকে আলাদা করতে চাইছেন অভিষেক। তিনি প্রতীক উরের মতো একটা ফ্রেশ মুখকে নিয়ে নিজের একটা আইডেন্টিটি তৈরি করছেন বলে অনেকেরই মত।
দলের মধ্যে সাদরে আমন্ত্রণ
অন্য দল থেকে নেতারা এলে খুব একটা খুশি হতে দেখা যায় না 'আদি তৃণমূলদের'। তবে প্রতীকের ক্ষেত্রে বিষয়টা উল্টো হয়েছে। তিনি দলে যোগ দেওয়ার পর অনেকেই পোস্ট করেছেন তাঁকে স্বাগত জানিয়ে। এই যেমন দেবাংশু লেখেন, 'বহুদিন পর কোনও যোগদানে মন থেকে খুশি হলাম। একজন ভালো মানুষ দলে এলো..
স্বাগত Pratikur Rahaman
বিজেপি বিরোধী যুদ্ধ শক্তিশালী হোক।'
এছাড়া অরূপ চক্রবর্তী ছবি পোস্ট করে লেখেন, 'আজকের সেরা মুহূর্ত।'
তাই এটা সহজেই বোঝা যাচ্ছে যে প্রতীক উর যোগ দেওয়ায় আদতে খুশি দলের পুরনো কর্মীরা। আর সেটা ভোটে মাইলেজ দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।