
গ্যাসের জোগান কমে যাওয়ায় কার্যত উধাও অটো, আর সেই শূন্যস্থানই দ্রুত ভরাট করছে ব্যাটারি চালিত টোটো। ভোটের মুখে রাজনৈতিক প্রচারে এখন প্রার্থী ও কর্মীদের প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে এই টোটোই।
আগে ভোট এলেই পাড়া-মহল্লায় অটোয় মাইক বেঁধে প্রচার চালানো ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ছবি। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি একেবারেই আলাদা। গ্যাসের তীব্র সংকটে অটো চালকদের দিনের বেশিরভাগ সময়ই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত গ্যাসের অপেক্ষায় থাকায় রাস্তায় অটোর সংখ্যা কমে গিয়েছে অনেকটাই। ফলে ভোটের প্রচারের জন্য অটো ভাড়া নেওয়া এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে।
এই পরিস্থিতিতে টোটোই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে সহজলভ্য বিকল্প। অলিগলি থেকে শহরের প্রধান রাস্তায়, সব জায়গাতেই এখন দেখা যাচ্ছে টোটোর মাথায় মাইক, পোস্টার আর দলীয় পতাকা। আগে যেখানে অটো ছিল প্রচারের প্রধান বাহন, এখন সেখানে টোটো ঘুরে ঘুরে পৌঁছে দিচ্ছে প্রার্থীদের বার্তা।
অটোচালকদের কথায়, গ্যাসের অভাবে যেখানে নিয়মিত পরিষেবাই ব্যাহত, সেখানে অতিরিক্ত রোজগারের সুযোগও হাতছাড়া হচ্ছে। অন্যদিকে, টোটোচালকদের মুখে এখন হাসি। ঘণ্টা হিসেবে বা দৈনিক চুক্তিতে তারা ভালোই পারিশ্রমিক পাচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে দিনে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত আয় হচ্ছে, সঙ্গে খাবারের খরচও মিলছে।
শুধু মাইক প্রচারেই নয়, এখন টোটোর ব্যবহার বাড়ছে মিছিলেও। একসঙ্গে একাধিক টোটো নিয়ে তৈরি হচ্ছে নতুন ধরনের ‘টোটো মিছিল’, যা আগের সাইকেল মিছিলের জায়গা দখল করছে ধীরে ধীরে। রাজনৈতিক দলগুলিও এই সহজলভ্য ও কম খরচের পরিবহণকে কাজে লাগাতে শুরু করেছে জোরকদমে।
টোটোচালকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এখন আর যাত্রীর অপেক্ষায় রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে না। রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকেই আগাম ডেকে নেওয়া হচ্ছে। নির্দিষ্ট সময় ধরে শুধু পাড়ায় পাড়ায় ঘুরলেই নিশ্চিত আয়। ফলে ভোটের মরশুমে টোটো চালানো এখন অনেকটাই নিশ্চিন্ত ও লাভজনক পেশা হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে, গ্যাস সংকটে অটো পরিষেবা যখন ধাক্কা খেয়েছে, তখন সেই সুযোগেই ভোটের বাজারে নতুন করে নিজের জায়গা পাকা করে নিচ্ছে টোটো। আর এই বদলে যাওয়া চিত্রই এবারের ভোটের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে।