
হুমায়ুন কবীর ও বিজেপির সঙ্গে জড়িত হাজার কোটি টাকার বড়সড় কেলেঙ্কারি। আজ এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করল তৃণমূল কংগ্রেস। এ দিন তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক সম্মেলনে এই গুরুতর অভিযোগ করলেন তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস ও কুণাল ঘোষ।
এ দিন কুণাল ঘোষ বলেন, 'আমরা একটি সূত্র থেকে জানতে পেরেছি বিজেপিকে কেন্দ্র করে হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। ধর্মের ভিত্তিতে রাজনীতি করছে বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম ভোট ভাগ করার চেষ্টা চলছে। এই চক্রান্তে হুমায়ুন কবীর জড়িত। এছাড়া আরও অনেকে যুক্ত।'
তিনি আরও বলেন, 'আমাদের কাছে একটি ভিডিও এসেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে হুমায়ুন কবীর নিজেই বলছেন তিনি ১০০০ কোটি টাকা পাচ্ছেন। এর সঙ্গে PMO-ও (প্রধানমন্ত্রীর অফিস) যুক্ত।'
তাই তাঁর দাবি, 'সবাইকে চিহ্নিত করতে হবে। তদন্ত দরকার। ED-কে নোটিস পাঠাতে হবে হুমায়ুন কবীরকে।'
এই প্রসঙ্গে বিজেপি এবং হুমায়ুনকে নিশানা করেছেন ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন, 'বিজেপি বাংলাকে অপমান করছে। বারবার দলবদল করা হুমায়ুন কবীরকে ব্যবহার করছে বিজেপি।'
কী দেখা যায় ভিডিওতে?
এই সাংবাদিক বৈঠকে একটি ভিডিও দেখায় তৃণমূল (সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি bangla.aajtak.in)। তাদের দেখানো ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, হুমায়ুন কবীর টাকা নিয়ে ডিল করছেন। ওই ভিডিওতে হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে যা কথোপকথন হয়, সেটা এখনে লেখা হল- '১০০০ কোটি টাকা আসবে। বাবরি মসজিদ হবে কি হবে না জানি না।' তাঁকে আরও বলতে শোনা যায়,
'মুসলিমরা খুব সরল, তাদের বোকা বানানো খুব সহজ।'
তারপরই এই ইস্যুতে কবীরকে আক্রমণ করেন ফিরহাদ। তিনি বলেন, 'একটি মসজিদের নামে সে সওদা করছে। আমি আমার মুসলিম ভাইদের বলব, এদের বিশ্বাস করবেন না। তিনি বলছেন মসজিদের নাম বাবরের নামে রেখেছেন, যাতে আবেগ বিক্রি করা যায়। হুমায়ুন কবীর মুসলিমদের অনুভূতি বিজেপির কাছে বিক্রি করছেন। এটি চরম নিন্দনীয় কাজ।'
এদিন নিজের বক্তব্যে তিনি মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা এবং AIMIM প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসিকেও আক্রমণ করেন।
ফিরহাদের হুঙ্কার, 'যদি সাহস থাকে তাহলে সরাসরি বলুন। সমাজের হত্যার বদলা নিতে চাই না, তাই বিজেপিকে ভোট দিচ্ছেন এবং বিজেপিকে সুবিধা করে দিচ্ছেন। সরাসরি বলুন, ঘুরিয়ে কথা বলবেন না।'