
'বাংলায় যদি বিজেপি শক্তিশালী হয়ে থাকে, তার জন্য দায়ী তৃণমূল কংগ্রেস এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।' এহেন বড় দাবি করলেন AIMIM বা মিম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। তিনি আরও দাবি করেন, ভারতের সংবিধান এবং বিশেষ করে গরিব মুসলিমদের বিজেপি ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যতটা ক্ষতি করেন, তৃণমূলও ঠিক ততটাই করে।
আর বাংলার ভোটের আগে মিম প্রধানের তৃণমূল এবং বিজেপিকে একই আসনে বসিয়ে এহেন আক্রমণ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। এর প্রভাব ভোট বাক্সে পড়ার আশঙ্কাও করছেন কেউ কেউ।
বুধবার তৃণমূলের বিরুদ্ধে আক্রমণের সুর চড়িয়ে তিনি আরও বলেন, 'বাংলার যে সব এলাকায় মুসলিম জনসংখ্যা বেশি, সেখানে না আছে স্কুল না আছে হাসপাতাল। আর যেখানে হাসপাতাল রয়েছে, সেখানে বেড নেই। যেখানে বেড রয়েছে, সেখানে ডাক্তার নেই। এই সব এলাকায় মানুষ বিশুদ্ধ পানীয় জলও পায় না। কৃষকরাও পায় না কোনও সাহায্য...'
ওয়েইসির মতে, বাংলায় মুসলিম মহিলাদের উপর বিরাট অন্যায় হয়ে চলেছে। এমনকী SIR-এর সময় মুসলিমদের উপর যেই সব অবিচার হয়েছে, তা নিয়েও সরব হন ওয়েইসি। এসবের পিছনেও মমতার হাত দেখছেন তিনি। তাঁর কথায়, 'এখানে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় রয়েছেন মুসলিমরা। SIR তালিকা থেকে মুসলিমদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এমনকি হিন্দুদের নামও বাদ পড়েছে। বলুন তো, এটা কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের-এর দায়িত্ব নয়?'
তাঁর মতে, এখানে তৃণমূল সরকার। তাই সবার নাম যাতে SIR তালিকায় থাকে, সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব মমতার। কিন্তু সেই কাজটি তিনি করেননি বলে দাবি করেন ওয়েইসি। তাঁর কথায়, 'এটা আপনার সরকার, আপনি মুখ্যমন্ত্রী। ক্ষমতা আপনার হাতেই। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল শুধু ভোট নিয়েই ভাবেন। যদি মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ে, তাহলে তার দায়িত্বও তৃণমূলের ওপরই পড়ে...'
তৃণমূল আর বিজেপির মধ্যে নেই কোনও পার্থক্য
ওয়েইসির মতে, বাংলায় বিজেপি এবং তৃণমূল একই রকমভাবে কাজ করে। তাদের মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই। তারা ভাই-বোনের মতো। এই দুই দল মিলেই বাংলাকে বোকা বানাচ্ছে।
মাথায় রাখতে হবে, আসন্ন নির্বাচনে প্রথমে হুমুয়ান কবীরের দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টির সঙ্গে জোট করার কথা ঘোষণা করেছিল মিন। কিন্তু হুমায়ুনের 'বাবরি ডিল' ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরই তারা দূরত্ব বাড়িয়ে নেয়। এখন তারা একলা চলার নীতি নিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আবার তৃণমূল এবং বিজেপির বিরুদ্ধে একযোগে আক্রমণ চালালেন ওয়েইসি।