
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে পোলিং বুথে রাজনৈতিক দলের এজেন্টদের বসতে দেওয়া হবে না। নির্বাচন কমিশন এমনটাই নির্দেশ দিয়েছে বলে খবর রটেছিল। যদিও এই খবরকে একবারে উড়িয়ে দিল কমিশন। তাদের পক্ষে এই মর্মে একটি প্রেস বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। সেখানে জানান হয়েছে, এই ধরনের কোনও নতুন নির্দেশিকা জারি করেনি কমিশন। আগে যেমন নির্দেশ দেওয়া ছিল, তেমনটাই রয়েছে নিয়ম।
প্রসঙ্গত, বেশ কিছু দিন ধরেই পোলিং বুথে রাজনৈতিক দলের এজেন্ট নিয়ে একাধিক কথা হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। অনেকেই বলতে শুরু করেছিলেন যে এবার আর বুথের ভিতর এজেন্ট দিতে পারবে না রাজনৈতিক দলগুলি। এমনকী বেশ কিছু সংবাদ মাধ্যমেও খবর করা হয় এই মর্মে।
যদিও এই পরিস্থিতিতেই বিষয়টা নিয়ে মুখ খুলল কমিশন। তাদের পক্ষ থেকে জানান হয়েছে, এই ধরনের কোনও নতুন নির্দেশ কমিশনের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি। আগে যেই নির্দেশ দেওয়া ছিল, ঠিক সেই নিয়মই রয়েছে। অর্থাৎ বার্তা স্পষ্ট, বুথের ভিতর এজেন্ট দেওয়া নিয়ে কোনও নতুন নিয়ম করা হয়নি।
ট্রাইব্যুনালে কীভাবে নিষ্পত্তি?
অবশেষে বিচারাধীন বা অ্যাডজুডিকেশন ভোটারদের নিষ্পত্তি করেছে কমিশন। এমনকী চূড়ান্ত ভোটার লিস্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের জেলা ধরে ধরে নিষ্পত্তির সেই হিসেব প্রকাশও করেছে কমিশন। আর সেই হিসেবে দেখা গিয়েছে ভোটার লিস্ট থেকে বাদ পড়েছেন প্রায় ২৭ লক্ষেরও বেশি ভোটার। এই বাদ পড়া ভোটাররা আবেদন করতে পারবেন ট্রাইব্যুনালে। তবে ভোটের আগে নাম নিষ্পত্তি হয়ে ডিলিটেড ভোটাররা আদৌ ভোট দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।
মাথায় রাখতে হবে, ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হলেও, এটি কীভাবে কাজ করবে, সেই সম্পর্কে কোনও রূপরেখা ছিল না। তবে এবার ট্রাইব্যুনাল কী পদ্ধতিতে চলবে তা নির্ধারণ করতে একটি কমিটি গঠন করল কলকাতা হাইকোর্ট। যদিও কবে থেকে ট্রাইব্যুনাল কাজ শুরু করবে, তা এখনও স্পষ্ট করা হয়নি।
গত সোমবারই সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয় ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে একইরকমভাবে প্রক্রিয়া চলবে। কোনও হেরফের হবে না। সেই প্রক্রিয়া নির্ধারণের জন্য এবার কমিটি গঠন করার নির্দেশও দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। সেই মতো বিবেচনাধীন প্রক্রিয়ার জটিলতা কাটাতে তিন প্রাক্তন বিচারপতির কমিটি গড়ে দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল।
এই কমিটিতে থাকবেন কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম। এছাড়া থাকবেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রদীপ্ত রায় এবং অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রণবকুমার দেব। ট্রাইবুনালের ১৯ জন বিচারপতি কোন পদ্ধতি মেনে কাজ করবেন, নির্ধারণ করবেন তাঁরাই। তারপরই কাজ শুরু করবে এই ট্রাইব্যুনাল।