
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার অভিযোগে বুধবার দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল মালদার মোথাবাড়ি, সুজাপুর-সহ বিভিন্ন এলাকা। এসআইআর-এর কাজে নিযুক্ত সাত জন বিচারককে কালিয়াচক-২ ব্লক অফিসের ভিতর আটকে রাখা হয়। এই ঘটনার জেরে উদ্বিগ্ন ছিলেন খোদ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। নিজেই এই কথা জানিয়েছেন তিনি।
সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বে তিন বিচারপতির বেঞ্চে বৃহস্পতিবারও প্রতিদিনের মতো শুনানি শুরু হয়। কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যেই সূর্য কান্ত যে তথ্য সামনে আনেন তাতে আদালত কক্ষ স্তব্ধ হয়ে যায়। তিনি এজলাসে জানান, পশ্চিমবঙ্গের মালদা শহরে বুধবার দুপুরের পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত যা ঘটেছে, তা সত্যিই আইন-শৃঙ্খলা, রাজনীতি এবং বিচারব্যবস্থা- সবকিছুর জন্যই উদ্বেগজনক।
বুধবার রাতে কী হয়েছিল তার বিস্তৃত বর্ণনা করেন প্রধান বিচারপতি। তিনি জানান, প্রায় মধ্যরাতে জানতে পারেন ঘটনা সম্পর্কে। রাত দুটো পর্যন্ত তিনি ঘুমোতে পারেননি। কারণ তিনি ক্রমাগত রাজ্য সরকারের শীর্ষ আধিকারিক এবং কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ রাখছিলেন। আটকে রাখা বিচারপতি ও আধিকারিকদের ব্যাপারে ঘন ঘন খোঁজ নিচ্ছিলেন তিনি।
এজলাসে তিনি বলেন, 'আমাকে রাতেই রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং পুলিশ মহাপরিদর্শককে মৌখিক নির্দেশ দিতে হয়। তারপরই প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। কারণ ঘেরাও হওয়া এক আধিকারিকের বাড়িতে তাঁর পাঁচ বছরের শিশুও ছিল। এই তথ্য জানার পর আমি পশ্চিমবঙ্গ প্রশাসনকে কড়া প্রশ্ন করি, রাত ১১টা পর্যন্ত আপনারা কালেক্টরকে সেখানে পাঠাননি কেন? যখন কোনও সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া যায়নি, তখন আমাকে রাতেই কঠোর মৌখিক নির্দেশ জারি করতে হয়। এরপরই প্রশাসন সক্রিয় হয়।'
প্রধান বিচারপতি রাজ্য প্রশাসনকে কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করেন। বলেন, 'গতকালের ঘটনা এই আদালতের আধিকারিকদের চ্যালেঞ্জ জানানোর এক নির্লজ্জ প্রচেষ্টা। প্রশাসনিক গাফিলতি ছাড়া এটা কিছু নয়। এই হামলার উদ্দেশ্য এসআইআর প্রক্রিয়ায় যুক্ত আধিকারিকদের ভয় দেখানো এবং বাধা সৃষ্টি করা। যাতে ভোটার তালিকার বিশেষ পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এটা আসলে আদালতের আদেশ ও কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করার সামিল। তাই এই ঘটনা আদালত অবমাননার আওতায় পড়ে।'