Advertisement

WB Assembly Election 2026: উত্তরবঙ্গে রাজবংশী-কামতাপুরী ভোট কার ঝুলিতে? নজরে অনন্ত–বংশী–অমিত

পশ্চিমবঙ্গ দখল করতে হলে উত্তরবঙ্গে ভাল ফল করতেই হবে বিজেপিকে। উত্তরবঙ্গে বিভিন্ন জেলায় ২০২১-এ বিজেপির উল্লেখযোগ্য দাপট দেখেছিল বাংলা। এবারের ভোটে উত্তরবঙ্গে বিজেপি ৫৪ এর মধ্যে ৪৫ টিতেই জিতবে দাবি করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তবে খাতায় কলমে যতটা সহজ মনে হচ্ছে, গেরুয়া শিবিরের জন্য এবার ততটা নাও হতে পারে। নেপথ্যে রাজবংশী ও কামতাপুরী সমর্থন এবার কোন দিকে থাকবে তা নিয়ে ধোঁয়াশা।

উত্তরবঙ্গে রাজবংশী ও কামতাপুরী সমর্থন এবার কোন দিকে, ভোট ভাঙন আটকাতে পারবে বিজেপি?উত্তরবঙ্গে রাজবংশী ও কামতাপুরী সমর্থন এবার কোন দিকে, ভোট ভাঙন আটকাতে পারবে বিজেপি?
সুমনা সরকার
  • কলকাতা,
  • 11 Mar 2026,
  • अपडेटेड 1:55 PM IST

পশ্চিমবঙ্গ দখল করতে হলে উত্তরবঙ্গে ভাল ফল করতেই হবে বিজেপিকে।  উত্তরবঙ্গে বিভিন্ন জেলায় ২০২১-এ বিজেপির উল্লেখযোগ্য দাপট দেখেছিল বাংলা। এবারের ভোটে উত্তরবঙ্গে বিজেপি  ৫৪ এর মধ্যে ৪৫ টিতেই জিতবে দাবি করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তবে খাতায় কলমে যতটা সহজ মনে হচ্ছে, গেরুয়া শিবিরের জন্য এবার ততটা নাও হতে পারে। নেপথ্যে রাজবংশী ও কামতাপুরী সমর্থন এবার কোন দিকে থাকবে তা নিয়ে ধোঁয়াশা। 

প্রসঙ্গত, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত স্পষ্ট হচ্ছে। কোচবিহারে কামতাপুর পিপলস পার্টি-র কর্মীসভাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। তবে কি এবার ঘাসফুল শিবিরের দিক থেকে মুখ ফেরাতে চলেছেন কেপিপি সুপ্রিমো অমিত রায়? কর্মীসভার শেষে তাঁর বক্তব্যে তেমনই ইঙ্গিত মিলেছে। কোচবিহারে দলের কর্মীদের নিয়ে দীর্ঘ বৈঠকে বসেন অমিত রায়। বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, যে দল কামতাপুরী মানুষের দাবি-দাওয়া ও আবেগ নিয়ে ভাবনাচিন্তা করবে, কেপিপি সেই দলকেই সমর্থন করার কথা ভাববে।

দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের একাধিক আসনে নিজস্ব প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতিও শুরু করেছে কেপিপি। তবে অমিত রায়ের এই ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। অনেকের প্রশ্ন, তবে কি তলে তলে ভারতীয় জনতা পার্টি-র সঙ্গে কোনো সমঝোতার পথে হাঁটতে পারে কেপিপি? যদিও কেপিপি সুপ্রিমো এখনই কোনো নির্দিষ্ট দলের নাম করে মুখ খোলেননি। ফলে উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হবে কি না, তা নিয়ে এখনই নিশ্চিত কিছু বলা না গেলেও অমিত রায়ের এই মন্তব্যে যে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে, তা বলাই বাহুল্য।

এদিকে গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশনের  নেতা বংশীবদন বর্মন দিল্লি গিয়েছেন। এই ধরনের একটি খবর ছড়িয়ে পড়েছে কোচবিহারে। বিজেপি উচ্চ নেতৃত্বদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হতে পারে, এমন খবরও রটেছে। সামাজিক মাধ্যমে নাম না করেও অনেকে এই বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। বংশী নিজে বিষয়টি খোলসা করেননি। গ্রেটার নেতার আচমকা এই দিল্লি যাত্রায় বিধানসভা নির্বাচনের আগে নতুন অঙ্ক দেখছে রাজনৈতিক মহল। বিশেষ করে রাজবংশী ভোটের নতুন সমীকরণ হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

Advertisement

বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি ও রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলের কাছে ২৫টি আসনের দাবি জানিয়েছেন গ্রেটার নেতা বংশীবদন বর্মন। নির্দল হিসেবে তারা লড়াই করতে চাইছে। শুধু ২৫টি আসনই নয়, সেই সঙ্গে রাজ্যের কাছে দু’হাজার রাজবংশী স্কুলের অনুমোদন, রাজবংশী ডেভেলপমেন্ট বোর্ডকে স্বশাসিত করার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রের কাছে পৃথক কোচবিহার রাজ্য অথবা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠনের প্রস্তাবও দেওয়া রয়েছে। সেইসঙ্গে রাজবংশী ভাষাকে অষ্টম তপশীলের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে। রাজ্য বা কেন্দ্র যে এই দাবিগুলি মেনে নেবে বংশীবদনের দ্য গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশন তাদের দিকে থাকবে। কিন্তু যদি দু’পক্ষই মেনে নেয় তাহলেও বংশীবদন বর্মনের গ্রেটার কেন্দ্রের দিকে থাকবে। তাঁর দাবি, যে নুন দেবে তার গুণ গাওয়া হবে।

কোচবিহার জেলায় প্রায় ৩৩ শতাংশ রাজবংশী ভোট রয়েছে। সারা উত্তরবঙ্গেও রাজবংশী ভোটের বড় প্রভাব রয়েছে। কোচবিহারের অপর গ্রেটার নেতা অনন্ত মহারাজ ওরফে নগেন রায়কে সম্প্রতি রাজ্য সরকার বঙ্গবিভূষণ সম্মান দিয়েছে। এদিকে, বংশীবদন বর্মন আগে থেকেই রাজ্য সরকারের কাছাকাছি রয়েছেন। কিন্তু নির্বাচন এগিয়ে আসতেই তিনি এবার ভোটে ২৫টি আসন দাবি করছেন। যা বিধানসভা নির্বাচনের আগে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। দ্য গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশনের নেতা বংশীবদন বর্মন বলছেন, এতদিন আমরা শুধু ভোট দিয়ে এসেছি। এবার আমরা ২৫টি আসনের দাবি করেছি। সেইসঙ্গে আরও কিছু দাবি জানানো রয়েছে। যে এই দাবিগুলি মেনে নেবে আমরা তার পক্ষে থাকব। যদি দু’পক্ষই মেনে নেয় তাহলে আমরা কেন্দ্রকেই প্রাধান্য দেব। 


 

Read more!
Advertisement
Advertisement