
শনিবার জঙ্গিপুরের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এআই (AI) বা ভুয়ো ভিডিও নিয়ে রাজ্যবাসীকে সতর্ক করেছিলেন। মোদী বলেন, ‘ভোট যত এগোচ্ছে, এই তৃণমূলের লোকজন নিজেদের নিশ্চিত পরাজয় দেখতে পাচ্ছেন। তাই আগামিদিনে ওই লোকজনরা চক্রান্তের পথে হাঁটবেন। অসমেও এই খেলাটা খেলা হয়েছে। পুদুচেরিতেও একই কাজ করা হয়েছে। এআইয়ের মাধ্যমে, আর্টিফিসিয়াল ইনটেলিজেন্সের মাধ্যমে ভুয়ো ভিডিয়ো বানিয়ে মিথ্যা ছড়ানোর চেষ্টা করবে। আমরা যেন এরকম কোনও মিথ্যের ফাঁদে না পড়ি। সত্যের পথে হেঁটে এরকম কাঠিন্য বজায় রাখতে হবে আমাদের।' তার ঠিক পরেই তৃণমূল পাল্টা আক্রমণে নামে। তৃণমূলের অভিযোগ, হুমায়ুন কবীরের ভাইরাল ভিডিও-র অস্বস্তি কাটাতে এবং তাঁকে বাঁচাতেই প্রধানমন্ত্রী এআই-এর অজুহাত খাড়া করেছেন
তৃণমূল কংগ্রেস তাদের অফিসিয়াল হ্যান্ডেল থেকে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে ট্যাগ করে লিখা হয়—'একটি বিস্ফোরক ভিডিওতে হুমায়ুন কবীরকে ক্যামেরার সামনে দাবি করতে দেখা গেছে যে, বিজেপি তাঁকে ১০০০ কোটি টাকা দিয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী, হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, মোহন যাদব এবং খোদ পিএমও-র সঙ্গে যোগাযোগ করে তিনি বাংলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। ভিডিওটি ফাঁস হওয়ার পর থেকে হুমায়ুন মরিয়া হয়ে এটিকে এআই-নির্মিত বলে দাবি করছেন। আর স্বয়ং নরেন্দ্র মোদী ভুয়ো ভিডিওর কথা বলে হুমায়ুনকে সমর্থন জানালেন।' তৃণমূলের স্পষ্ট দাবি, প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তৃতা আসলে হুমায়ুন কবীরকে রাজনৈতিকভাবে আড়াল করার চেষ্টা। বিজেপি ও হুমায়ুনের মধ্যে যে গোপন সমঝোতা রয়েছে, তা মোদীর কথাতেই সিলমোহর পেল। এই নিয়ে এবার মুখ খুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
মমতা কী বললেন?
খন্ডঘোষের লোদনা ফুটবল গ্রাউন্ডের জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'একটা পার্টিকে ভাগ করার জন্য, হিন্দু মুসলমান করতে, ১০০০ কোটি টাকার ডিল করেছ, তার জন্য আমোদী-কুমোদী বাবুকে রাস্তায় নামতে হয়েছে, আপনি বলছেন আর্টিফিসিয়াল, যে করেছে সে বলছে ভিডিওটা সত্য, কত আর শাক দিয়ে মাছ ঢাকবেন।'
এদিকে শুক্রবার ভিডিয়োটি এআই বলে দাবি করলেও হুমায়ুনের শনিবারের বক্তব্য নতুন করে ধোঁয়াশা তৈরি করেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরোনো কিছু ছবি দেখিয়ে হুমায়ুন শনিবার বলেন, ‘বাংলায় বিজেপিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিয়ে এসেছিলেন। কে আরএসএস–কে ডেকে এনেছিলেন? আমাকে এখন বিজেপির বি–টিম বলা হচ্ছে। আমি হাইকোর্টে মামলা করছি। ছ’জন আইনজীবী নিয়োগ করেছি। এটা ৫১ মিনিট ৯ সেকেন্ডের ভিডিয়ো, সেখানে ১৯ মিনিট ১৪ সেকেন্ড দেখানো হয়েছে। পুরো ভিডিয়ো প্রকাশ করব।’ এই নিয়ে তৃণমূল প্রশ্ন, তুলেছে, তাহলে হুমায়ুনের কোন বক্তব্য ঠিক, সেটা তিনি আগে স্পষ্ট করুন।