
বাংলায় চলছে SIR বা ভোটারা তালিকার নিবিড় সংশোধন। এখনও ফাইনাল ভোটার লিস্ট বেরনো বাকি। সেটি ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হবে। আর এই প্রক্রিয়ার জন্য রাজ্যে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রথম থেকেই দাবি করে এসেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মতো তাঁদের পাশে থাকার বার্তাও দিয়েছেন তিনি। আর নিজের কথা মতো এবার সেই সকল স্বজনহারা পরিবারের যে কোনও একজনকে সরকারি চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে মন্ত্রীসভার বৈঠকে বলে খবর। এমন মোট ৬১ পরিবারের একজন করে চাকরি দেওয়া হবে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম থেকেই দাবি করেছেন যে SIR-এর জন্য ভয়ে ভয়ে রয়েছেন সাধারণ মানুষ। কারণ, কমিশনের চাওয়া নথি অনেকের কাছেই নেই। তাই তাঁরা ফাইনাল লিস্টের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন। তাঁদের মনে বাসা বাঁধছে নাগরিকত্ব হারানোর ভয়। ও দিকে আবার যাঁরা SIR-এর কাজের সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের পাহাড়প্রমাণ চাপের মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে। বিএলও থেকে শুরু করে ভোটার তালিকার সংশোধনের সঙ্গে যুক্ত অনেকে তাই আত্মহত্যা করেছেন বলে বারবার দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূল কংগ্রেস। সেই মতো পরিবারগুলির পাশে থাকার বার্তাও দিয়েছিলেন তিনি। আর এবার নিজের কথা মেনেই ওই সব পরিবারের মধ্যে একজনকে চাকরি দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।
তবে এই প্রসঙ্গে বলে রাখি, SIR-এর ক্ষেত্রে তাঁদেরই চাকরি দেওয়া হবে, যাঁদের পরিবার সরকারের কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। সাধারণ মানুষের জন্য ঘোষণা করা হয়নি।
রাজ্যের যুক্তি হল, সরকারি কাজ করতে গিয়ে অনেক আধিকারিকের অকাল মৃত্যু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অসহায় হয়ে পড়েছে তাঁদের পরিবার। বাড়ির রোজগেরে মানুষটি প্রাণ হারানোয় সবাই অথৈ জলে গিয়ে পড়েছেন। তাই তাঁদের পাশে দাঁড়াতে চাইলে সরকার। এমন ৬১টি পরিবারকে চাকরি দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
যদিও কোন দফতরে চাকরি দেওয়া হবে, তা নিশ্চিত করে জানান হয়নি। এমনকী কবে নিয়োগপত্র মিলবে, সেটাও জানা যায়নি। এই সব কিছুই আলোচনার স্তরে রয়েছে বলেই খবর মিলেছে সূত্র মারফত।
আগামিকাল ফাইনাল লিস্ট
SIR ফাইনাল ভোটার লিস্ট নিয়ে অনেকদিন ধরেই টালবাহানা চলছিল। যদিও কোর্টের হস্তক্ষেপের পর জানান হয়েছে যে ২৮ ফেব্রুয়ারিই বেরবে ভোটার লিস্ট। তবে এরপরও একাধিক সাপ্লিমেন্টরি লিস্ট বেরবে বলে জানা গিয়েছে।