
রাজ্যে এসে তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে 'চার্জশিট' পেশ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেই ইস্যুতে আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নাম না করে অমিত শাহকে আক্রমণ করেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভিকটিম কার্ডের রাজনীতি করে বলেও কটাক্ষ করেছিলেন শাহ। তাও নাকচ করে দেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
পুরুলিয়ার মানবাজারের সভা থেকে মমতার দাবি, বাংলায় যে বিজেপি নেতা এসেছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধেও চার্জশিট পেশ করা উচিত। মমতার কথায়, 'বাংলায় বিজেপির খুব বড় নেতা এসেছিলেন। তিনি নাকি চার্জশিট পেশ করেছেন তৃণমূলের বিরুদ্ধে। আমি বলি, আমার তো আপনার বিরুদ্ধেও চার্জশিট পেশ করা উচিত। আপনি দাঙ্গা করেছিলেন। গুজরাতে ক্ষমতা থাকাকালীন তো অনেক লোক মারা গিয়েছিলেন। যখন আমেরিকা থেকে গুজরাতিদের কোমরে দড়ি, শিকল পরিয়য়ে নিয়ে আসা হয়েছিল, তখন আপনারা কোথায় ছিলেন?'
কলকাতায় এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ব্যান্ডেজ’ নিয়ে কটাক্ষ করেছিলেন অমিত শাহ। দাবি করেছিলেন, মাথায়, পায়ে ব্যান্ডের বেঁধে ভিকটিম কার্ড পলিটিক্স খেলেন মমতা। সেই দাবি নিয়ে মমতা বলেন, 'অনেকে চক্রান্ত করছে। দিল্লি থেকে চক্রান্ত করা হচ্ছে। আমরা সব চক্রান্ত ব্যর্থ করে দেব। ওদের টার্গেট আমাদের বুথে রি পোল করানো। আমি মৃত্যুর মুখ থেকে অনেকবার বেরিয়ে এসেছি। আমার উপর অত্যাচার হয়েছে। তোমরা ইচ্ছা করে আমার উপর চোট করে দিয়েছিলে। আবার কি মারবার প্ল্যান করছে নাকি? না হলে এখন এসব কথা কেন বলছ?'
মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় বিজেপির তোলা অভিযোগের প্রেক্ষিতে বলেন, 'ওরা বলছে আমরা নাকি ডেমোগ্রাফি বদলে দিয়েছি। ২০০২ থেকে ১১ সাল পর্যন্ত আমরা ক্ষমতায় ছিলাম না। ১১ সালের পর এসেছি। শুধু মিথ্যা কথা বলে ওরা। খবর রাখে না। ওই দলটা ভোটারকাটা, দাঙ্গাকারী, সংবিধান হত্যাকারী, অত্যাচারী, মিথ্যাচারী। তোমাদের এবার কেউ ভোট দেবে না।'
বিজেপিকে আক্রমণ করে তৃণমূল সুপ্রিমো আরও বলেন,'ওরা দাঙ্গা করে, মানুষ মেরে ক্ষমতায় এসেছে, দাঙ্গা করে ক্ষমতায় এসেছে। সবচেয়ে বেশি আদিবাসীদের উপর অত্যাচার হয়েছে, মহিলাদের উপর বিজেপি রাজ্যগুলোতে। উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানে। বাংলাভাষায় কথা বললে অন্য রাজ্যে বাঙালিদের মারধর করা হচ্ছে।'