
নববর্ষে রাজ্যবাসীকে শুভেচ্ছা জানাতে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলে একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে অভিনন্দন এবং শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশিই SIR ইস্যু নিয়েও সরব হলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। একইসঙ্গে জানালেন, বাংলার উপর অত্যাচার ও জুলুম হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় এজেন্সি দিয়ে ‘বাংলার উপর অত্যাচার, জুলুম’ করা হচ্ছে বলে ভিডিওতে সরব হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর এই অত্যাচারের বিরুদ্ধেই তিনি 'বদলা নেওয়ার' ডাক দিলেন। তাঁর আহ্বান, গণতন্ত্রের উৎসবে শামিল হন সকলে। অর্থাৎ, ভোটের বাক্সে ‘বদলা নেওয়ার’ বার্তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
ভিডিওর শুরুতেই নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানান মমতা। তিনি বলেন, 'বাংলার একটা ঐতিহ্য, গরিমা আছে। এটা আমাদের বাংলার নববর্ষ। বাংলা সম্প্রীতি, সংহতি, সংস্কৃতির পীঠস্থান। আসুন, শান্তি-সম্প্রীতি-সংস্কৃতির বার্তা গিয়ে আমরা নতুন ভোর নিয়ে আসি।'
কিন্তু শুভেচ্ছার পাশাপাশিই মমতার ভিডিও বার্তায় ছিল কেন্দ্রীয় বঞ্চনা এবং সঙ্গে SIR হয়রানির কথাও। তিনি বলেন, '‘আমাদের সরকার ১০৫টা সামাজিক প্রকল্প করেছে। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত, সব মানুষ এই প্রকল্পগুলি থেকে সুবিধা পান। আগামী দিনেও সব মানুষ যাতে ভাল থাকেন, সেটা দেখাই আমাদের আসল উদ্দেশ্য। কিন্তু দিল্লির জমিদারেরা অনেক অত্যাচার করছে, ভোট কাটছে, অনধিকার প্রয়োগ করছে। সব এজেন্সি দিয়ে বাংলার উপর জুলুম অত্যাচার করছে। এই অত্যাচারের বদলা নিন। দয়া করে আপনারা ভোট দিন।' তাঁর সংযোজন, 'যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে SIR-এর জন্য যাঁরা আত্মহত্যা করেছেন, তাঁদের জন্য আমার মন কাঁদছে। আমি জানি, একটা পরিবারে চার জন ভোট দেবেন, এক জন পারবেন না, সেটা কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমি নিজে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গিয়েছি। ৩২ লক্ষ বাদ যাওয়া নামকে তুলতে পেরেছি। বাদবাকি যাঁরা আছেন, তাঁদের নামও আশা করি ভবিষ্যতে উঠবে। কারণ, ট্রাইবুনাল চলছে।'
ভিডিওর একদম শেষ প্রান্তে এসে মমতা বলেন, 'দাঙ্গা নয়, অত্যাচার নয়, রক্ত নয়! ওরা দিল্লি থেকে চমকাচ্ছে। কোনও চমকানি নয়। গণতন্ত্রের পীঠস্থান হচ্ছে নির্বাচন। এটা মানুষের ভোটের উৎসব।' এই ভিডিওতে রাজ্যের প্রতি কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থীদের জেতানোর আহ্বান করার পাশাপাশিই মমতা বলেন, '২৯৪ আসলে আমিই প্রার্থী।'