
অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেল কলকাতার জনপ্রিয় মিলেনিয়াম পার্ক। শুক্রবার থেকেই আর এই পার্কে এন্ট্রি দেওয়া হচ্ছে না। শীতের পিকনিক হোক, গরমের বিকেলে ফুরফুরে হাওয়ায় আড্ডা হোক কিংবা যুগলের প্রেম, সেরা ঠিকানা মিলেনিয়াম পার্ক। সেখানে আচমকাই কেন তালা পড়ে গেল?
জানা গিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মিলেনিয়াম পার্ক। সঙ্গে পার্ক লাগোয়া শিপিং জেটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, মিলেনিয়াম পার্কের ঠিক উল্টোদিকেই রয়েছে CEO দফতর। সদ্যই ঠিকানা বদল করে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে সেখানে স্থানান্তর হয়েছে। নির্বাচন উপলক্ষে এখন সরগরম ওই এলাকা। SIR পর্ব থেকে নির্বাচনের ঘোষণা, কখনও বিক্ষুদ্ধ BLO-দের বিক্ষোভ, আবার কখনও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অবস্থান বিক্ষোভের সাক্ষী হয়েছে রাজ্যের CEO দফতর। নিত্যদিনই সেখানে চলছে রাজনৈতিক দলগুলি বিক্ষোভ কর্মসূচি কিংবা দফতরে ডেপুটেশন দিতে বা অভিযোগ জানাতে যাচ্ছেন নেতা-নেত্রী, প্রার্থীরা। গত ৩১ মার্চ, স্ট্র্যান্ড রোডের সামনে ফর্ম ৬ জমা দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে তুমুল গন্ডগোল হয়। কোনওক্রমে পরিস্থিতি সামাল দেয় পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। ফলত মিলেনিয়াম পার্ক চত্বরটি এখন হাই প্রোফাইল হয়ে উঠেছে।
CEO অফিসে অশান্তির জেরে স্ট্র্যান্ড রোড সহ একাধিক জায়গায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা (পুরোনো ১৪৪ ধারা) প্রয়োগ করা হয়েছে। বন্ধ করে রাখা হয়েছে স্ট্র্যান্ড রোডের একাংশ। আর তই নিরাপত্তার বিষয়টিকে মাথায় রেখেই সাবধানতা অবলম্বনে পার্কের মতো জমায়েতের জায়গা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
শুক্রবার দুপুরে বন্ধ করে দেওয়া হয় গঙ্গার ধারের জনপ্রিয় পার্কটি। পার্কের ভিতরে যাঁরা ছিলেন সকলকে বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং বন্ধ করে দেওয়া হয় পার্কের গেট।
নিরাপত্তার স্বার্থে পার্ক সংলগ্ন শিপিং জেটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়। বহু মানুষ শিপিংয়ের জেটি থেকে লঞ্চ ধরে সহজে গঙ্গা পারাপার করেন। কেউ ট্রাফিক জ্যাম এড়িয়ে হাওড়া থেকে জলদি ট্রেন ধরতেও এখান থেকেই লঞ্চ ধরেন। ফলে এই ফেরিঘাট বন্ধ থাকলে অসুবিধায় পড়বেন ফেয়ারলি প্লেস লাগোয়া অফিসের কর্মীদের একাংশ।
কবে ফের খুলবে মিলেনিয়াম পার্ক এবং এই জেটি তা এখনও জানা যায়নি। ভোট মিটলেই ফের পার্কে এন্ট্রি শুরু হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।