
উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার উত্তরে অবস্থিত জলপাইগুড়ি লোকসভা আসনের সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের একটি হল মাল কেন্দ্র। তফসিলি উপজাতি সংরক্ষিত এই আসনটি মাল পৌরসভা ও মাল ব্লক মিলিয়ে গঠিত। ১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে পশ্চিমবঙ্গে অনুষ্ঠিত প্রতিটি বিধানসভা নির্বাচনে মাল অংশ নিয়েছে। শুরুর দু’দশক মাল ছিল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি। ১৯৫১ থেকে ১৯৭২-এর মধ্যে সাতটি নির্বাচনের ছ’টি তারা জেতে। কেবল ১৯৫৭ সালে কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়া সেই ধারাকে ভেঙে দেয়। এরপর ১৯৭৭ সালে রাজ্যে বামফ্রন্ট ক্ষমতায় এলে মালেও পাল্টে যায় ছবিটা। ১৯৭৭ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত টানা সাত বার এই আসনে জয় ধরে রাখে সিপিএম, এমনকী ২০১১ সালে রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় এলেও মাল আসনে সিপিএমের জয় বজায় থাকে।
...
উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার উত্তরে অবস্থিত জলপাইগুড়ি লোকসভা আসনের সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের একটি হল মাল কেন্দ্র। তফসিলি উপজাতি সংরক্ষিত এই আসনটি মাল পৌরসভা ও মাল ব্লক মিলিয়ে গঠিত। ১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে পশ্চিমবঙ্গে অনুষ্ঠিত প্রতিটি বিধানসভা নির্বাচনে মাল অংশ নিয়েছে। শুরুর দু’দশক মাল ছিল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি। ১৯৫১ থেকে ১৯৭২-এর মধ্যে সাতটি নির্বাচনের ছ’টি তারা জেতে। কেবল ১৯৫৭ সালে কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়া সেই ধারাকে ভেঙে দেয়। এরপর ১৯৭৭ সালে রাজ্যে বামফ্রন্ট ক্ষমতায় এলে মালেও পাল্টে যায় ছবিটা। ১৯৭৭ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত টানা সাত বার এই আসনে জয় ধরে রাখে সিপিএম, এমনকী ২০১১ সালে রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় এলেও মাল আসনে সিপিএমের জয় বজায় থাকে।
২০১১ সালে তৃণমূলের জোয়ারকে অল্পের জন্য আটকাতে পেরেছিলেন সিপিএমের বুলু চিক বড়াইক। পরে তিনি দলবদল করে তৃণমূলে যোগ দেন এবং ২০১৬ ও ২০২১, দু’বারই দলের টিকিটে জয় পান। ২০১১ সালে তাঁর জয়ের ব্যবধান ছিল মাত্র ৪,২১৬ ভোট। তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর সেই ব্যবধান ২০১৬-তে বেড়ে হয় ১৮,৪৬২। তবে ২০২১-এ আবার কমে দাঁড়ায় ৫,৪৬৫ ভোটে, যা প্রতিযোগিতার তীব্রতা বাড়ার ইঙ্গিত বহন করে।
এদিকে মাল কেন্দ্রে বিজেপির উত্থান হয়েছে ধারাবাহিকভাবে। ২০১১ সালে মাত্র ৫,০০৬ ভোট পেয়ে পঞ্চম স্থানে থাকা দলটি ২০১৬-তে উঠে তৃতীয় স্থানে আসে, ভোট পায় ২৯,৩৮০। ২০২১ সালে তাদের ভোট বেড়ে দাঁড়ায় ৯৩,৬২১, এবং তারা দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে। ফলে ২০২৬-এর আগে মাল কেন্দ্রে বিজেপি এখন একটি উল্লেখযোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী।
পার্লামেন্ট ভোটেও একই গ্রাফ দেখা যায়। ২০০৯ সালে মাল অংশে সিপিএম ও কংগ্রেস। এই দুই দলের পিছনে ছিল বিজেপি। ২০১৪-তেও তারা তৃতীয় ছিল, তখন তৃণমূল সিপিএমকে ছাড়িয়ে যায়। ২০১৯-এ মাল কেন্দ্রে প্রথম স্থানে উঠে আসে বিজেপি, তৃণমূল যায় দ্বিতীয় স্থানে। তবে ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে ফের ছবিটা বদলায়, তৃণমূল মাল অংশে বিজেপির থেকে ১২,৮১৫ ভোটে এগিয়ে থাকে।
২০২১ সালে মাল বিধানসভায় মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ২,৩৭,৩০৫। এর মধ্যে তফসিলি উপজাতি ভোটার প্রায় ৩২.৩৬ শতাংশ, তফসিলি জাতি ভোটার ২৫.৪৫ শতাংশ এবং মুসলিম ভোটার প্রায় ১৯ শতাংশ। মাল বিধানসভায় ভোটদানের হার বরাবরই অত্যন্ত উঁচু। প্রতিটি নির্বাচনে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশের মধ্যেই ওঠানামা করে। ভৌগোলিকভাবে মাল ডুয়ার্স অঞ্চলে অবস্থিত, পূর্ব হিমালয়ের পাদদেশে। ঘন বন, চা-বাগান ও উর্বর সমতলভূমির মিশেল এই এলাকার প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য। মালের উপর দিয়ে বয়ে গিয়েছে নেওড়া, মূর্তি ও ডায়না নদী। যা কৃষিকে সমর্থন করে এবং বসতির ধরণকে প্রভাবিত করে। অর্থনীতির মূল ভিত্তি কৃষি, বিশেষত চা-বাগান। মাল ও আশপাশে বহু চা-বাগান রয়েছে, যা এলাকার কর্মসংস্থান ও আয়ের প্রধান উৎস। ভুটানের সান্নিধ্য এই অঞ্চলে সীমান্তবর্তী সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক বিনিময়ও বাড়িয়েছে।
মালের পরিকাঠামো ধীরে ধীরে উন্নত হচ্ছে। মালবাজার শহরটি প্রশাসনিক ও বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। জলপাইগুড়ি শহর এখান থেকে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার দূরে, শিলিগুড়ির প্রায় ৬৫ কিলোমিটার এবং কলকাতার দূরত্ব প্রায় ৬০০ কিলোমিটার। ভুটানের সামসি বা ফুন্টশোলিংয়ের মতো শহরগুলি এখান থেকে সহজে পৌঁছনো যায়। এবার মাল কেন্দ্রে তৃণমূল জয়ের হ্যাটট্রিকের আশা করলেও বিজেপির জোরালো উত্থান লড়াইকে জমিয়ে তুলবে বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা। ফলাফল অনেকটাই নির্ভর করবে বামফ্রন্ট তাদের পুরোনো ভোটব্যাঙ্ক পুনরুদ্ধার করতে পারে কি না, কারণ সেই ভোটের বড় অংশ গত এক দশকে তৃণমূলের কাছে চলে গিয়েছে।
Mahesh bagey
BJP
Manu oraon
CPI(M)
Nota
NOTA
Gita oraon
SUCI
Bablu majhi
IND
Augustus kerketta
CPM
Mahesh bage
BJP
Nota
NOTA
Anjali malo
BSP
Jyotish minj
SUCI