Advertisement

PM Modis Letter To Bengal: 'জয় মা কালী' বলে রাজ্যবাসীকে খোলা চিঠি লিখলেন মোদী, একবার 'সুযোগ' চাইলেন

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পশ্চিমবঙ্গের নাগরিকদের উদ্দেশ্যে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন, যেখানে তিনি রাজ্যের উন্নয়ন, আইন-শৃঙ্খলা এবং কল্যাণমূলক প্রকল্পের বিষয়গুলি তুলে ধরেছেন। হিন্দি এবং বাংলা ভাষায় লেখা চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে 'সোনার বাংলার' স্বপ্ন দেখেন এমন প্রত্যেকেই কষ্ট পাচ্ছেন।

রাজ্যবাসীকে খোলা চিঠি মোদীররাজ্যবাসীকে খোলা চিঠি মোদীর
Aajtak Bangla
  • দিল্লি,
  • 23 Feb 2026,
  • अपडेटेड 12:26 PM IST

ভোটের আগে রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে ‘পরিবর্তন যাত্রা’ করবে বিজেপি । এরপর ব্রিগেডে নরেন্দ্র মোদীর  জনসভা থেকে বিধানসভা ভোটের দামামা বাজাতে চাইছে গেরুয়া শিবির। পরিবর্তন যাত্রার সূচনা করতে মার্চের প্রথম সপ্তাহেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন, রাজনাথ সিং, দেবেন্দ্র ফড়নবীশ, শিবরাজ সিংহ চৌহান, নীতিন গড়করি, স্মৃতি ইরানির মতো হেভিওয়েটরা রাজ্যে আসবেন। আর এই আবহেই প্রধানমন্ত্রী মোদী রাজ্যবাসীকে খোলা চিঠি লিখলেন। 

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পশ্চিমবঙ্গের নাগরিকদের উদ্দেশ্যে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন, যেখানে তিনি রাজ্যের উন্নয়ন, আইন-শৃঙ্খলা এবং কল্যাণমূলক প্রকল্পের বিষয়গুলি তুলে ধরেছেন। হিন্দি এবং বাংলা ভাষায় লেখা চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে 'সোনার বাংলার' স্বপ্ন দেখেন এমন প্রত্যেকেই কষ্ট পাচ্ছেন।

চিঠিতে তিনি বলেছেন, আগামী মাসগুলিতে রাজ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে এবং এই সিদ্ধান্ত জনগণের উপর নির্ভর করে। তিনি রাজ্যকে 'উন্নত' এবং 'সমৃদ্ধ' করার জন্য তাঁর সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং জনগণকে উন্নয়ন যাত্রায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর চিঠিটি দেবী কালীর প্রশংসা দিয়ে শুরু করেছেন। তিনি লিখেছেন যে পশ্চিমবঙ্গের ভূমি দেশকে অনেক মহান ব্যক্তিত্ব দিয়েছে।

তিনি বলেন, গত ১১ বছরে কেন্দ্রীয় সরকার জনকল্যাণ এবং সামগ্রিক উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে।  কৃষক, যুবক, মহিলা এবং দরিদ্রদের জন্য চালু করা প্রকল্পগুলি ইতিবাচক ফলাফল দিয়েছে। তিনি দাবি করেন যে রাজ্য সরকারের সহযোগিতার অভাব সত্ত্বেও, কেন্দ্রীয় সরকারের বেশ কয়েকটি প্রকল্পের সুবিধা পশ্চিমবঙ্গের লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে পৌঁছেছে। জন ধন যোজনার আওতায় লক্ষ লক্ষ মানুষ ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং শিল্পকে ঋণ সুবিধা প্রদান করেছে, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করেছে।

প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছেন যে তিনি বাংলাকে উন্নত ও সমৃদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি নিয়েছেন। বাংলার মা ও বোনেরা নিরাপদ নন। অবৈধ অভিবাসন এবং মহিলাদের  বিরুদ্ধে হিংসা রাজ্যকে কলঙ্কিত করেছে। রাজ্য সংকীর্ণ ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতি, হিংসা এবং অরাজকতার মধ্যে জড়িয়ে পড়েছে। ভুয়ো ভোটাররা তাদের অবস্থান তৈরি করছে। আমাদের অবৈধ অভিবাসন থেকে নিজেদের মুক্ত করতে হবে এবং সুশাসন অনুসরণ করতে হবে।

Advertisement

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে পরিবর্তন অপরিহার্য
প্রধানমন্ত্রী চিঠিতে আরও লিখেছেন যে স্বাধীনতার পরে পশ্চিমবঙ্গ শিল্প উন্নয়নে শীর্ষস্থানীয় ছিল, কিন্তু সাম্প্রতিক দশকগুলিতে পিছিয়ে পড়েছে। তিনি অভিযোগ করেছেন যে রাজনৈতিক হিংসা, দুর্নীতি এবং তোষণ রাজ্যের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করেছে। তিনি যুবসমাজের অভিবাসন এবং বিনিয়োগের অভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

চিঠিতে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কথা উল্লেখ করে বলেন যে, আজ মহান ব্যক্তিত্বদের আশীর্বাদপ্রাপ্ত বাংলার ভূমির একটি নতুন দিকনির্দেশনা প্রয়োজন। তিনি রাজ্যের উন্নয়নের জন্য তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের কথাও স্মরণ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, আয়ুষ্মান ভারতের মতো কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্পগুলি স্বাস্থ্যসেবা, দরিদ্রদের জন্য আবাসন এবং মহিলাদের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। তিনি নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের মাধ্যমে শরণার্থীদের নাগরিকত্ব প্রদানের প্রয়োজনীয়তার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।

চিঠির শেষে, প্রধানমন্ত্রী জনগণকে 'উন্নত পশ্চিমবঙ্গ' গড়ে তোলার জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন যে ২০২৬ সালের মধ্যে রাজ্যকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়াই লক্ষ্য। এই চিঠিটি রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ এটি আসন্ন রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের আগে জনসাধারণের কাছে সরাসরি আবেদন হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপির মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যে, এই চিঠি নির্বাচনী বিতর্ককে আরও তীব্র করতে পারে।

Read more!
Advertisement
Advertisement