
Supreme Court Bengal Voters: ভোটার তালিকা বাদ পড়া ব্যক্তিদের অন্তর্বর্তীকালীন ভোটাধিকারের দাবি খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court of India)। ফলে আপাতত যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁরা ভোট দিতে পারবেন না।
১১ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ বা বাতিল হওয়া নিয়ে মোট ৩৪ লক্ষ ৩৫ হাজার ১৭৪টি আপিল জমা পড়েছে। এত বিপুল সংখ্যক আপিলের নিষ্পত্তি ভোটের আগে করা কার্যত অসম্ভব বলেই ইঙ্গিত দেয় আদালত। প্রধান বিচারপতি বলেন, এই মুহূর্তে সব আপিল দ্রুত মেটাতে গেলে ট্রাইব্যুনালগুলির উপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে। তাতে ভুলের সম্ভাবনাও বাড়বে।
আবেদনকারীদের পক্ষ থেকে প্রবীণ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে সওয়াল করেন। জানান, এত মানুষের ভোটাধিকার খর্ব করা উচিত নয়। তিনি বলেন, এই ৩৪ লক্ষেরও বেশি মানুষ প্রকৃত ভোটার এবং তাঁরা ভোট দিতে চান। তাই অন্তত যত বেশি সম্ভব আপিল দ্রুত নিষ্পত্তি করে ভোটের সুযোগ দেওয়া হোক। এমনকি আলাদা সম্পূরক ভোটার তালিকা তৈরির প্রস্তাবও দেওয়া হয়।
তবে বেঞ্চ সেই দাবি খারিজ করে দেয়। বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা জানান, ভোটাধিকার ও যাচাই প্রক্রিয়া; দুইয়ের মধ্যে একটা 'মধ্যপন্থা' খোঁজার চেষ্টা করছে আদালত। বিচারপতি বাগচি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী কোনও আপিল নিষ্পত্তি হলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিক সঙ্গে সঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধন করতে পারেন। তবে সব কিছু দ্রুত করতে গেলে ভুল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলেও মত আদালতের।
এদিকে পাল্টা যুক্তি দেয় নির্বাচন কমিশনও (Election Commission of India)। আদালতে জানায়, ভোটের আগে তালিকা চূড়ান্ত করার একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। সেই প্রক্রিয়ার সঙ্গে তালিকা সংশোধনের নিয়ম আলাদা। ফলে ভোটের মুখে বড়সড় পরিবর্তন করা কঠিন।
একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলার বিষয়েও উদ্বেগের কথাও তোলা হয়। ভোটের আগে ও পরে অশান্তির সম্ভাবনা থাকায় সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল। একদিকে লক্ষ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্ন। অন্যদিকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখার চাপ। এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি আদালত। তবে এই মুহূর্তে একটি বিষয় স্পষ্ট। ভোটের আগে অন্তর্বর্তী ভোটাধিকার দেওয়ার আর্জিতে সায় দিতে নারাজ সর্বোচ্চ আদালত।