
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের বুলডোজার মডেল নিয়ে চিরকালই গদগদ বঙ্গ বিজেপি। তাই বাংলা বিজেপির একাধিক নেতা এই মডলের পক্ষে বারবার সওয়াল করছেন। তারা বাংলায় সরকারে এলে বুলডোজার চলবে, এমনটাও ঘোষণা করেছেন। যদিও এবার সরকারে আসার আগেই বুলডোজার নিয়েই মনোনয়ন জমা দিতে যেতে চাইলেন এক বিজেপি প্রার্থী।
মঙ্গলবার পূর্ব বর্ধমান জেলার বিজেপি প্রার্থী রাজু পাত্র বুলডোজার নিয়েই মনোনয়ন যাবেন বলে ঠিক করেন। যদিও তাঁর সেই আকাঙ্খা পূরণ হয়নি। নির্বাচন কমিশন তাঁকে বুলডোজারে চেপে মনোনয়ন জমা দিতে দেয়নি। শেষে তাঁকে হুড খোলা জিপে চেপেই মনোনয়ন জমা দিতে যেতে হয়।
আর ছাব্বিশের ভোটের আগে রাজুর এহেন কর্মকাণ্ডই আবার বুলডোজারকে চর্চায় তুলে এনেছে। অনেকেরই প্রশ্ন, বিজেপি সরকারে এলে কি যোগীর বুলডোজার মডেল বাংলাতেও দেখা যাবে? এই প্রশ্নের উত্তরে বিজেপি নেতা রাজর্ষি লাহিড়ি বলেন, 'অবৈধ নির্মাণ ভাঙতে বুলডোজার ব্যবহার হয়। বাংলাতে যত্রতত্র অবৈধ নির্মান রয়েছে। নদী বুজিয়ে, খাল বুজিয়ে, রাস্তা দখল করে যত্রতত্র নির্মাণ চলছে। গার্ডেন রিচ, বন্দর সহ একাধিক জায়গায় নিয়ম না মেনেই নির্মাণ হয়েছে। আর সেই সব নির্মাণ ভাঙতে তো অবশ্যই বুলডোজার চলবে। বিজেপি সরকারে এলেই এই নীতি নেওয়া হবে।'
কিন্তু, নির্বাচন কমিশন তো বুলডোজার নিয়ে মনোনয়ন দিতে দিল না? এই প্রশ্নের উত্তরে রাজর্ষি উত্তর, 'নির্বাচন কমিশন তাদের কাজ করবে। দল দলের মতো চলবে। নির্বাচন কমিশন কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করে না। তাই বাধা দিয়েছে। যেমন নিয়ম সেই মতোই তারা কাজ করবে। আমদের দল দলের মতো কাজ করবে।'
তাঁর আরও দাবি, অন্যায়ের বিরুদ্ধে অ্যাকশন হবে বিজেপি সরকারে এলেই। জবরদখল উচ্ছেদ করা হবে। আইন মেনেই বুলডোজার চলবে। সব কাজ হবে আইন মেনে।
যদিও বুলডোজারকে সামনে রেখে বিজেপি ভোট চায় না বলে জানিয়ে দিলেন রাজর্ষি। তাঁর দাবি, 'বিজেপি মতাদর্শ মেনে কাজ করে। তার ফলেই আজ দেশের একক বৃহত্তম দল হয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। আমাদের দলের যেই সকল সংকল্প রয়েছে, সেই সব নীতি মেনেই কাজ হবে। বিজেপি শুধু ভোট রাজনীতি করে না।'
তৃণমূলের কী দাবি?
বিজেপির বুলডোজার মডেলকে বাংলার মানুষ মেনে নেবে না বলে দাবি করলেন তৃণমূলের মুখপাত্র প্রতীক উর রহমান। তিনি বলেন, 'এখনও রাস্তায় গেলে অনেক জায়গাতেই বুলডোজার দেখতে পাবে। তবে সেই সব বুলডোজার গড়ার কাজ করছে। ভাঙার কাজ নয়। এটাই বিজেপির সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের পার্থক্য।'
পাশাপাশি তাঁর বক্তব্য, 'এই ভোটে বাংলার মানুষ গণতান্ত্রিক উপায়ে ভোট দিয়ে বিজেপিকে গুঁড়িয়ে দেবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার গঠন হবে।'