
'আমার নমিনেশন কাটবার জন্য ওই গদ্দাররা আমার নামে দুটো মিথ্যে এফিডেভিট করেছিল। আমার নমিনেশন ক্যানসেল করার চেষ্টা করেছিল। পারেনি শেষ পর্যন্ত।' আজ নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপির বিরুদ্ধে একযোগে এভাবেই বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তিনি কেশোয়াড়ির জনসভায় আরও বলেন, 'অনেক অসম্মান করেছিল যাতে আমি না দাঁড়াতে পারি। আমার ওপর যদি এই অত্যাচার হয়, তাহলে আপনাদের ওপর কত অত্যাচার করতে পারে ভাবুন।'
পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন নিয়ে আরও একগুচ্ছ অভিযোগ করেন মমতা। তাঁর দাবি, কমিশন SIR-এর নাম করে ৯০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দিয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৬০ লক্ষ হিন্দু। ৩০ লক্ষ সংখ্যালঘু। এখানেই শেষ না করে তিনি জানান, ইভিএম ট্যাপ করতে চাইছে। ফ্রি ইলেকশন করতে দেবে না। সেই কারণেই তিনি তৃণমূল কর্মীদের জোট বেঁধে থাকার পরামর্শ দিলেন।
এখানেই শেষ না করে তিনি জানান, বিহারে ডিলিটেড ভোটারদের রেশন বন্ধ করে দিয়েছে। এখানেও এমনটাই করবে। ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠাবে। NRC করবে। যদিও তৃণমূল সরকারে এলে তিনি এই কাজটা করতে দেবেন না বলে আশ্বস্ত করেছেন তিনি।
অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে কী বললেন?
গতকালই সংকল্পপত্রে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি লাগু করবে বলে জানিয়েছে বিজেপি। আর আজ সেই বিধিকেই আক্রমণ করলেন মমতা। তাঁর কথায়, 'UCC-র মানে জানেন? আপনার কোনও অধিকার থাকবে না। আপনার ইচ্ছে মতো ধর্মচর্চা করার অধিকার থাকবে না।'
এখানেই শেষ না করে তাঁর আরও অভিযোগ, 'হিন্দুদের বিয়ে হয় একমতে, তপশিলিদের বিয়ে হয় একমতে, আদিবাসীদের বিয়ে হয় একমতে, সংখ্যালঘুদের বিয়ে হয় একমতে ও খ্রিস্টানদের বিয়ে হয় একমতে। সকলের একেক রকম পথ ও মত। এরা বলছে একটাই পথ হবে। বিজেপি মন্ত্র শিখিয়ে দেবে, বিজেপি যা বলে দেবে, তাই করতে হবে। সব মানুষের সব কিছু কেড়ে নেবে। আপনার ধর্ম, আপনার শিক্ষা এবং আপনার সংস্কৃতি, আপনার ঐতিহ্য কেড়ে নেবে।'
মমতার মতে, UCC মানে একটাই বিধি। একটাই নীতি। একটাই ধর্ম। তাই তিনি এই বিষয়টা নিয়ে সকল মানুষকে ভাববার কথা বললেন।
এই সভা থেকেও তিনি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে বড় দাবি করলেন। তাঁর কথায়, 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার আজীবন চলবে। কোনওদিন বন্ধ হবে না। আমৃত্যু চলবে।'