
২০২১ সালেও হাতে তুলে নিয়েছিলেন বিজেপির পতাকা। লক্ষ্য ছিল পরিবর্তন। তবে সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন আস্তেই ফের একই সংকল্প শোনা গেল দুই প্রধান সহ ভারতীয় দলে দাপিয়ে খেলা অরিন্দম ভট্টাচার্যের গলায়। গোলকিপার হলেও রাজনৈতিক আক্রমণ কীভাবে শানাতে হয় সেটা শিখেই নিয়েছেন প্রাক্তন ফুটবলার। বাঙালি এই গোলকিপার ইস্টবেঙ্গল সহ বিভিন্ন দলে খেলেছেন। বিজেপিতে যোগ দিতে সল্টলেক কার্যালয়ে আসেন তিনি। উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
শুধু রাজনীতিতে যোগ দেওয়া নয়, শুরু থেকেই কড়া আক্রমণ শুরু করে দিয়েছেন গোলকিপার অরিন্দম। কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ। বলেন, 'মধ্য প্রাচ্যের যুদ্ধের আবহে আমাদের দেশে যে গ্যাস এবং জ্বালানি, কিছু বাস্তবতা, কিছু অপপ্রচার দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার যে চেষ্টা চলছিল সেই আবহে, প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী ডিজেল এক্সাইজ ডিউটি ১০ টাকা কম করেছেন। বিমান পরিবহনের ক্ষেত্রে শুল্ক কমানো হয়েছে।
তৃণমূলের সন্ত্রাস নিয়ে ক্ষুন্ধ অরিন্দম
তৃণমূলের সন্ত্রাস নিয়েও সরব হন। এই সরকার আর থাকবে না বলে আত্মবিশ্বাসী অরিন্দম। তিনি বলেন, 'তৃণমূল আছে তৃণমূলেই। বহিরাগতদের দিয়ে সরকারি কর্মচারীদের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে। সরকারি অফিস থেকে শুরু করে সর্বত্র তৃণমূলীরা প্রবেশ করছে যেখানে তাদের অধিকার নেই। এই সরকার কাগজে কলমে আরও দুই মাস থাকবে। তৃণমূল কংগ্রেস চলে গেছে এটা মানুষ জানেন। নির্বাচনের মুখেও, এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর বিজ্ঞাপন চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, শিক্ষকরা আক্রান্ত, বিজেপি কর্মী আক্রান্ত, হিংসা হচ্ছে। আমরা নির্বাচন কমিশনের উপর আশা রাখতে চাই যে ভয়হীন নির্বাচন হবে। পশ্চিমবঙ্গে এই অবস্থার পরিবর্তন চাইতে, সব স্তরের মানুষ, এমনকি তৃণমূল স্তরের তৃণমূল কর্মীরাও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। প্রকৃত পরিবর্তনের স্বার্থে তাঁরা বিজেপিতে যোগদান করছেন।'
খেলেছেন প্রায় সব বড় দলে
২০০৬ সাল থেকে অরিন্দম প্রথম সারির ফুটবলার, ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করছেন, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরের ফুটবলার তিনি। আই লিগ ছাড়াও আইএসএলেও দাপিয়ে একটা সময় খেলেছেন অরিন্দম। আইএসএলের দল এটিকে, মুম্বই, নর্থ ইস্ট, পুনে সিটি, ইস্টবেঙ্গল দলের হয়ে খেলেছেন। গত বছর ইন্টার কাশি দলের হয়ে আই লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। এরপরই তিনি ফুটবল থেকে অবসর নেন। এখন বিধানসভা ভোটে তাঁকে কোন দায়িত্ব দেয় বিজেপি সেটা দেখার।