
বাংলায় ২০৩১ সালের বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিল কেন্দ্রীয় সরকার। প্রস্তাব অনুযায়ী, ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার আসন সংখ্যা বেড়ে হতে পারে ৪৪১। অর্থাৎ বর্তমান ২৯৪ আসনের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি।
এই পরিবর্তনের মূল ভিত্তি হল সংবিধানের প্রস্তাবিত ১৩১তম সংশোধনী বিল।
কেন্দ্রীয় সরকার লোকসভায় একসঙ্গে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী বিল পেশ করতে চলেছে, সংবিধান সংশোধন, ডিলিমিটেশন কমিশন সংক্রান্ত আইন এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল সংক্রান্ত আইন। এই বিলগুলি পাশ হলে শুধু লোকসভা নয়, রাজ্য বিধানসভাগুলির আসন সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
সরকারি প্রস্তাব অনুযায়ী, লোকসভার আসন সংখ্যা বর্তমান ৫৪৩ থেকে বেড়ে ৮৫০ করা হতে পারে। সেই সঙ্গে প্রতিটি রাজ্যের আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন করা হবে। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার আসন সংখ্যা ১৪৭টি বৃদ্ধি পেয়ে মোট দাঁড়াতে পারে ৪৪১। ফলে ২০২৬ সালের নির্বাচন হবে ২৯৪ আসনে শেষ নির্বাচন, আর ২০৩১ সালের ভোট হবে নতুন কাঠামোয়।
এই আসন বৃদ্ধির অন্যতম লক্ষ্য হল মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ কার্যকর করা। কেন্দ্র চাইছে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই এই সংরক্ষণ বাস্তবায়িত হোক। সে জন্য প্রয়োজন আসন সংখ্যা বৃদ্ধি এবং নতুন করে সীমানা নির্ধারণ, যা সম্পূর্ণ করতে ডিলিমিটেশন কমিশনের কয়েক বছর সময় লাগবে।
সংসদীয় মন্ত্রী কিরেন রিজেজু জানিয়েছেন, শেষবার ১৯৭১ সালে লোকসভার আসন সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছিল, যখন দেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৬০ কোটি। বর্তমানে তা ১৪০ কোটিরও বেশি। ফলে একজন সাংসদের উপর গড়ে ২৫-২৭ লক্ষ মানুষের প্রতিনিধিত্বের চাপ পড়ছে, যা গণতান্ত্রিক ভারসাম্যের জন্য চ্যালেঞ্জ।
তবে এই প্রস্তাব ঘিরে বিতর্কও তুঙ্গে। দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলি এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে। এম কে স্ট্যালিনের অভিযোগ, জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন বাড়ানো হলে দক্ষিণের রাজ্যগুলির প্রতিনিধিত্ব শতাংশের হিসেবে কমে যাবে। তাঁর মতে, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল রাজ্যগুলিকে এইভাবে ‘শাস্তি’ দেওয়া ঠিক নয়।
এই মতকে সমর্থন করেছেন কংগ্রেস নেতা পি চিদাম্বরম। তাঁর দাবি, বর্তমান লোকসভায় দক্ষিণের রাজ্যগুলির প্রতিনিধিত্ব ২৪.৩ শতাংশ হলেও নতুন প্রস্তাবে তা কমে প্রায় ২০.৭ শতাংশে নেমে আসতে পারে।
সব মিলিয়ে, আসন বৃদ্ধি ও ডিলিমিটেশন নিয়ে কেন্দ্রের এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতের নির্বাচনী রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে চলেছে। ২০৩১ সালের বিধানসভা নির্বাচন তাই শুধু সংখ্যার পরিবর্তন নয়, বরং রাজনৈতিক সমীকরণেরও বড় রদবদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে।