
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এমন বেশ কিছু কেন্দ্র ছিল, যেখানে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান ছিল মাত্র কয়েক হাজার ভোট। SIR-এর পর সেই আসনগুলির সমীকরণ বদলে যেতে পারে? এই নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, মোট ২৯২টি আসনের মধ্যে প্রায় ৩৬টি কেন্দ্রে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান ছিল ৫ হাজারেরও কম। কোথাও ব্যবধান ৫ হাজার, কোথাও বা ১০ হাজারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল ফলাফল। ফলে সামান্য ভোটের ওঠানামাই ফল নির্ধারণ করেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, আসন্ন নির্বাচনে এই আসনগুলিই বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে।
সেই সময় তৃণমূল কংগ্রেস বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরলেও বহু কেন্দ্রে লড়াই ছিল হাড্ডাহাড্ডি। ফলে আগামী নির্বাচনে এই ‘ক্লোজ মার্জিন’ আসনগুলিকে ঘিরে প্রস্তুতি শুরু করেছে তৃণমূল এবং বিজেপি; দুই শিবিরই।
এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের মুখপাত্র দেবাংশু ভট্টাচার্য বলেন, ২০২১ সালের নির্বাচনে গড় ভোট ব্যবধানের নিরিখে তৃণমূল অনেকটাই এগিয়ে ছিল। তাঁর কথায়, 'অ্যাভারেজ মার্জিনের দিক থেকে তৃণমূলের ব্যবধান প্রায় ৩০ হাজার ভোট ছিল। কিন্তু যদি খুব কম ব্যবধানের আসনগুলির দিকে তাকানো হয়, সেখানে দেখা যাবে অনেক ক্ষেত্রে বিজেপি অল্প ভোটে এগিয়ে ছিল।'
দেবাংশুর বক্তব্য, সেই আসনগুলির উপরেই বিশেষ নজর দিচ্ছে তৃণমূল। তিনি বলেন, 'আসন ব্যবধান কম হোক বা বেশি, সব ক্ষেত্রেই আমরা সমান নজর দিচ্ছি। তবে যে আসনগুলোয় কম ব্যবধান, কিন্তু বিজেপি জিতে গিয়েছে, সেখানে জেতায় আমরা বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছি। যেখানে তৃণমূল কম ব্যবধানে হলেও এগিয়ে, সেগুলির তুলনায় বিজেপির জেতা আসনগুলো নিয়েই আমরা বেশি কাজ করছি।'
অন্য দিকে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহা মনে করছেন, SIR প্রক্রিয়ার পর ভোটের সমীকরণ অনেকটাই বদলে যেতে পারে। তাঁর কথায়, 'বাংলার সমস্ত আসনেই আমরা সমান ভাবে গুরুত্ব দিচ্ছি। তবে যে আসনগুলিতে ৫ হাজারের কম ব্যবধান ছিল, সেখানে এবার বিজেপির জেতার সম্ভাবনাই বেশি।'
রাহুলের দাবি, SIR-এর ফলে মৃত ভোটার এবং ভুয়ো ভোটারদের নাম বাদ পড়ছে। ফলে ভোট আরও স্বচ্ছ হবে। তাঁর কথায়, 'যেখানে তৃণমূল ২-৩ হাজার ভোটে এগিয়ে ছিল, সেখানেও SIR হয়েছে। কোথাও কোথাও ৪০ হাজার পর্যন্ত ভোট বাদ পড়ছে। ফলে ভুয়ো ভোট বাদ গেলে সমীকরণ বদলে যাবে।'
সব মিলিয়ে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে সেই কম ভোট ব্যবধানের আসনগুলি নিয়ে যে দুই দলই ভাবছে, তা বলাই বাহুল্য।