
দীর্ঘ কয়েক দশক পরে পশ্চিমবঙ্গে ২ দফায় ভোট হতে চলেছে। এর মাঝে যতগুলি বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে, সব ক্ষেত্রেই কখনও ৫, কখনও ৬, কখনও ৭ বা ৮ দফায় ভোট হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। গতবার ২০২১ সালে ৮ দফায় ভোট হয়েছিল। দীর্ঘ একমাস ধরে চলেছিল নির্বাচন প্রক্রিয়া।
দীর্ঘ ৩৫ বছর পরে দুই দফায় ভোট
বস্তুত, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এর আগে যখন সব দলের সঙ্গে আলাদা করে মিটিং করেছিলেন, তখন বাম, কংগ্রেস ও বিজেপি দাবি করেছিল, এক থেকে দুই দফায় ভোট হোক পশ্চিমবঙ্গে। তারপরই জল্পনা তৈরি হয়েছিল, ২০২৬ সালের নির্বাচন খুব বেশি হলে ৩ দফায় হতে পারে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করে দিল, ২ দফায় হবে ভোট।
কেন ৮ দফা থেকে কমিয়ে ২ দফা করা হল?
এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে জ্ঞানেশ কুমার জানান, পশ্চিমবঙ্গে সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে দেখেছে কমিশন। তাতে মনে করা হয়েছে, দু'দফাতেই ভোট করানো যথেষ্ট। সব পক্ষের জন্যই এটি সুবিধাজনক হবে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী হিংসার ঘটনায় বাংলায় যে সব পুলিশ অফিসারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল, এবার সেই সব পুলিশ অফিসারদের ভোট প্রক্রিয়ার বাইরে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানালেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।
২০২১ সালে ৮ দফা নির্বাচনের পিছনে কী যুক্তি ছিল?
২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ৮ দফায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই সময় দেশজুড়ে COVID-19 মহামারি চলছিল, তাই নির্বাচন পরিচালনা নিয়ে বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হয়েছিল। প্রথম দফার ভোট হয় ২৭ মার্চ এবং শেষ দফার ভোটগ্রহণ হয় ২৯ এপ্রিল। দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে তখন বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনা হয়েছিল। বেশি দফায় ভোট হলে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যেতে সুবিধা হয়, এই যুক্তি দিয়েছিল কনিশন।
এ বছর রাজনৈতিক দলগুলির একটি বড় যুক্তি হল, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে আগের তুলনায় অনেক বেশি সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী আগে থেকেই মোতায়েন রয়েছে। তাই এত দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচন করার প্রয়োজনীয়তা নেই। তাদের মতে, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বাহিনী থাকলে অল্প কয়েকটি দফাতেই শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা সম্ভব।