
রাজ্যে এসেছে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। সেই দলে রয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারও। ইতিমধ্যেই এই বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক সেরে ফেলেছে তৃণমূল, বিজেপি, সিপিআইএম, কংগ্রেস সহ রাজ্যের একাধিক দল। আর সেখানে রাজ্যের অধিকাংশ বিরোধী দল নির্বাচন কমিশনকে ১ থেকে ২ দফায় ভোট করানোর দাবি জানিয়েছে। আর সেই কথাটা স্বীকার করে নিয়েছেন জ্ঞানেশও।
যদিও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ২০১৬ হোক বা ২০২১, সব সময়ই বেশি দফায় ভোট করার দাবি জানিয়েছিল বিরোধী দলগুলি। এর মাধ্যমেই তৃণমূলের ভোট সন্ত্রাস রুখে দেওয়া সম্ভব, বলে মনে করতেন তারা। আর সেই দাবি মতো, ২০১৬ সালে ৬ দফায় ভোট হয়। আর ২০২১ সালে ভোটের দফা আরও বাড়ে। মোট ৮ দফায় ভোট হয় সেবার। কিন্তু এইবার উল্টো গাইছে রাজ্যের প্রায় সমস্ত বিরোধী দলই। তাদের পক্ষ থেকে ১ বা ২ দফায় ভোট করানোর দাবি করা হয়েছে।
এখন প্রশ্ন হল, কেন হঠাৎ এই স্ট্র্যাটেজি বদল বিজেপি, সিপিআইএম ও কংগ্রেসের? আর সেই উত্তরটাই খুঁজলাম আমরা।
এই প্রসঙ্গে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, 'আমরা ১ দফায় ভোট চেয়েছি। বিগত ভোটগুলিতে আমরা দেখেছি যে বেশি দফায় ভোট করলে তৃণমূলের গুন্ডাগিরি বেড়ে যায়। গুন্ডা বাহিনী খুব সহজেই এক দফা থেকে অন্য দফায় যেখানে ভোট হয়, সেখানে চলে যায়। সেখানে ভোট করায়। ভোটাররা সন্ত্রস্ত্র হয়। তাই আমরা চেয়েছি এক দফায় ভোট হোক।'
এছাড়া তিনি জানান, এখনও অনেক মানুষের নাম বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে। নির্বাচন কমিশন এখনও সাপ্লিমেন্টরি লিস্ট করবে বলে জানাচ্ছে। তাই কংগ্রেস চাইছে যাতে একবারে ভোট হয়। তার আগেই যেন বেরিয়ে যায় ভোটার লিস্ট।
এই বিষয়ে CPIM নেতা ময়ূখ বিশ্বাসও শুভঙ্করেই সুরেই কথা বলেন। তাঁর মন্তব্য, 'ভোটের দফা বাড়লে তৃণমূলের সন্ত্রাসও বাড়ে। গঙ্গার ওপারে এক দফায় ভোট করিয়ে অন্য দফায় এ দিকে চলে আসে সমাজবিরোধীরা। তারাই তৃণমূলের হয়ে ভোট করায়। তাই এ বার কম দফায় ভোট চাওয়া হয়েছে।'
পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট জানান যে, আধা সেনার উপর তাঁদের বিশ্বাস নেই। এই সেনা তৃণমূলের থেকে 'খাবার খেয়ে' নিরাপত্তা দিতে ভুলে যায়। তাই এই দিকটাও কমিশনের দেখা উচিত বলে জানান তিনি।
যদিও এই বিষয়ে মুখ খুলতে চাননি বিজেপির যুব মোর্চার সভাপতি ইন্দ্রনীল খাঁ। তিনি জানিয়ে দেন যে, তাঁরা তাঁদের কথা বলেছে। এবার নির্বাচন কমিশনের উপর সবকিছু নির্ভর করছে। পাশাপাশি কম দফায় ভোট চাওয়া যে বিজেপির স্ট্র্যাটেজি, সেটাও সরাসরি মানতে চাননি তিনি।