Advertisement

'৪৫ দিনের মধ্যে DA,' BJP কেন মহার্ঘ ভাতা ইস্যুকে ফোকাস করছে ভোট রাজনীতিতে? যা জানা জরুরি

বর্তমানে রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা ২২ শতাংশ ডিএ পাচ্ছেন, যেখানে কেন্দ্রীয় হারে তা ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে ৫৫ শতাংশের ঘরে পৌঁছেছে। এই বিশাল ব্যবধানই এখন কর্মচারীদের ক্ষোভের মূল কেন্দ্রবিন্দু।

ডিএডিএ
পীযূষ মিশ্র
  • নয়াদিল্লি,
  • 28 Mar 2026,
  • अपडेटेड 8:56 AM IST
  • ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে ৫৫ শতাংশের ঘরে পৌঁছেছে
  • বিরোধীদের আক্রমণের ধার বেড়েছে
  • ৪৫ দিনের প্রতিশ্রুতি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত

পশ্চিমবঙ্গে মহার্ঘ ভাতা বা DA আর শুধুই বেতন ইস্যু নয়। বরং সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ এখন বাংলার অন্যতম রাজনৈতিক ইস্যুও। বিজেপি তাদের ২০২৬-এর নির্বাচনী ইশতেহারে জায়গা দিয়েছে বকেয়া ডিএ-কে। বলা হয়েছে, ক্ষমতায় এলে ৪৫ দিনের মধ্যে বকেয়া ডিএ দেওয়া হবে রাজ্য সরকারি কর্মীদের। ভোট বৈতরণী পার হতে সরকারি কর্মীদেরও মন পেতে মরিয়া গেরুয়া শিবির। 

বিশেষ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যখন জনসভা থেকে ঘোষণা করেছেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম পে কমিশন কার্যকর করা হবে, তখন থেকেই এই বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। ৫ এপ্রিল বিজেপির ইশতেহারে এই বিষয়ে বড় কোনও ঘোষণা আসার সম্ভাবনা নিয়ে এখন রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়। বিজেপি খুব ভাল করেই জানে, পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনাররা অত্যন্ত সচেতন, সংগঠিত এবং প্রভাবশালী গোষ্ঠী, যারা নির্বাচনের ফলাফল বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। ফলে সরকারি কর্মী ও পেনশনারদের মন পেতে ডিএ ও সপ্তম পে কমিশন যে বড় প্রতিশ্রুতি, তা বোঝার জন্য বড় রাজনৈতিক বোদ্ধা হওয়ার প্রয়োজন নেই।

৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে ৫৫ শতাংশের ঘরে পৌঁছেছে

বর্তমানে রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা ২২ শতাংশ ডিএ পাচ্ছেন, যেখানে কেন্দ্রীয় হারে তা ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে ৫৫ শতাংশের ঘরে পৌঁছেছে। এই বিশাল ব্যবধানই এখন কর্মচারীদের ক্ষোভের মূল কেন্দ্রবিন্দু। তাদের অভিযোগ কেবল কম টাকা পাওয়া নিয়ে নয় বরং মূল্যবৃদ্ধির বাজারে কেন্দ্রীয় সমমর্যাদার কাজ করেও কম বেতন পাওয়াটা তাদের কাছে অসম্মানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে আর্খিত ভাবেও বিষয়টি বঞ্চনার তুল্য। বছরের পর বছর জমে থাকা বকেয়া বা এরিয়ার বিষয়টিকে বিজেপি এখন 'রাজ্য সরকারের অবহেলা' হিসেবে তুলে ধরছে। শিক্ষক, ক্লার্ক, পুলিশ থেকে শুরু করে পেনশনার, এই বিশাল নেটওয়ার্কটি পাড়ায়-পাড়ায় এবং জেলা স্তরে জনমত তৈরিতে বড় ভূমিকা পালন করে, যা বিজেপির জন্য একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে।

Advertisement

বিরোধীদের আক্রমণের ধার বেড়েছে

তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য এই ইস্যুটি রাজনৈতিকভাবে বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো জনকল্যাণমূলক প্রকল্প দিয়ে শাসকদল গ্রাম বাংলায় মজবুত অবস্থানে থাকলেও, ডিএ-র প্রশ্নে তারা রক্ষণাত্মক। এখনও পর্যন্ত বকেয়া ডিএ মেটায়নি মমতার সরকার। বিশেষ করে ২০২৬-এর ফেব্রুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট যখন জানিয়ে দিল, ডিএ কোনও দয়া নয় বরং কর্মচারীদের আইনি অধিকার এবং ২৫ শতাংশ বকেয়া মেটানোর নির্দেশ দিল, তখন থেকেই বিরোধীদের আক্রমণের ধার বেড়েছে। বিজেপি এখন প্রচার করছে, সরকার বাধ্য হয়েই এখন টাকা দেওয়ার কথা বলছে, যা কোনও মতেই সদিচ্ছা নয়।

৪৫ দিনের প্রতিশ্রুতি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত

অমিত শাহের ৪৫ দিনের প্রতিশ্রুতি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। রাজনৈতিক ইশতেহারে সাধারণত কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকে না, কিন্তু এখানে সময় বেঁধে দিয়ে বিজেপি বোঝাতে চাইছে তারা এই বিষয়ে কতটা গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে। এর মাধ্যমে তারা তৃণমূলের দীর্ঘসূত্রিতার সঙ্গে নিজেদের কর্মতৎপরতার একটি বড় পার্থক্য তৈরি করতে চাইছে। শিক্ষিত মধ্যবিত্ত এবং সরকারি চাকরির উচ্চাকাঙ্ক্ষী যুবকদের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়াই বিজেপির মূল লক্ষ্য। কারণ বাংলায় সরকারি চাকরি আজও সামাজিক মর্যাদার প্রতীক, আর সেই চাকরির আর্থিক নিরাপত্তাহীনতা ভোটারদের মনে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে এই প্রতিশ্রুতির পেছনে বড় আর্থিক ঝুঁকিও রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান ঋণের বোঝা এবং আর্থিক পরিস্থিতির নিরিখে ক্ষমতায় এসে মাত্র দেড় মাসের মধ্যে কয়েক হাজার কোটি টাকার বকেয়া মেটানো প্রশাসনিকভাবে অত্যন্ত কঠিন কাজ। রাজ্য সরকারও সুপ্রিম কোর্টে আর্থিক সঙ্কটের কথা জানিয়ে সময় চেয়েছে। তাই শেষ পর্যন্ত এই ডিএ ইস্যু কি কেবল ভোটের প্রচারেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি সত্যিই কোনও বড় পরিবর্তন আনবে, তা নিয়ে জনমনে কৌতূহল তুঙ্গে। 

Read more!
Advertisement
Advertisement