
'বিয়ে করলে, কিন্তু মিষ্টি খাওয়ালেন না তো?' বক্তা দেশের প্রধানমন্ত্রী মোদী। আর তিনি প্রশ্নটা ছুড়ে দিয়েছিলেন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দিলীর ঘোষের দিকে। প্রধানমন্ত্রীর মুখে এই কথা শুনেই চমকে যান দিলীপ। কিছুটা লজ্জায় পড়ে যান সতীর্থদের সামনে।
আর এই বিষয়টা নিয়ে আমাদের সামনে মুখ খুললেন দিলীপ। তিনি একান্তভাবে বলেন, 'ভোট মিটে গেলে স্ত্রীকে নিয়ে দিল্লি গিয়ে কলকাতার রসোগোল্লা সহযোগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে আসব। আমি ভাবতেও পারিনি উনি আমাকে এই প্রশ্ন করবেন! প্রথমে অবাক হয়ে যাই। ওনাকে কী বলবও কিছুই বুঝতে পারিনি। তবে ওনার মন খুবই ভাল। ব্রিগেডে সভার পরিবেশ ও লোক দেখে মোদীর মুড খুবই ভাল ছিল।'
আসলে শনিবার ব্রিগেডে সভা শেষ করা পর মঞ্চে উপস্থিত একাধিক নেতাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছিলেন মোদী। একটু একটু করে কথা বলতে বলতে তিনি নেমে যাচ্ছিলেন। আর দিলীপর সামনে এসে তিনি কিছুটা সময় দাঁড়িয়ে যান। মিনিট খানেক কথা বলেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর কথায় রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতিকে খানিক লজ্জিত দেখা যায়। তবে দিলীপের আশপাশের লোকজন সেই কথোপকথনে যে বেশ আহ্লাদিত হয়েছিলেন, সেটা সহজেই বোঝা যায়।
পরে বিজেপি সূত্রে জানা যায়, মঞ্চে দিলীপের বিয়ের প্রসঙ্গ তোলেন মোদী। তিনি মিষ্টি খাওয়াননি বলে হাসির ছলেই অনুযোগ করেন। আর তাতেই অস্বস্তি বাড়ে দিলীপের। সেই কথাটা তিনি আজতক বাংলার কাছেও স্বীকার করেছেন। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছে যে ভোট মিটলেই স্ত্রীকে সঙ্গে করে বাংলার রসোগোল্লা নিয়ে মোদী সাক্ষাৎ সেরে আসবেন।
মোদী মঞ্চে দিলীপের বক্তব্য
বঙ্গ বিজেপির অন্যতম সফল নেতা দিলীপ বিয়ে করার পরই দলের ভিতরে নানা মত উঠতে থাকে। এমনকী তাঁর দীর্ঘদিনের কর্মক্ষেত্র আরএসএস-এর ভিতরেও কেউ কেউ বিয়ে নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তারপর পরিস্থিতি আরও নাটকীয় মোড় নেয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমন্ত্রণে দিঘায় জগন্নাথ মন্দিরে যাওয়ার পর। তারপর থেকেই দলে মোটামুটি একঘরে হয়ে পড়েছিলেন দিলীপ। তাঁকে কোনও কর্মসূচিতেই ডাকা হচ্ছিল না।
যদিও রাজ্য সভাপতি হিসেবে শমীক ভট্টাচার্য দায়িত্ব গ্রহণ করার পরই 'আদি' নেতাদের গুরুত্ব বাড়তে থাকে। সেই ট্রেন্ড ধরেই ডাক পেতে শুরু করেন দিলীপ। আর শনিবার তিনি সরাসরি মোদীর সভায় বলার সুযোগ পেলেন। পাশাপাশি মোদীও তাঁর সঙ্গে বললেন কথা। আর এই সব দৃশ্য দেখেই অনেকে বলতে শুরু করেছেন, যে দলে হারিয়ে যাওয়া গুরুত্ব ফিরে পেয়েছেন দিলীপ।