
এপারের বাঙালিদের মতো ওপার বাঙলার হিন্দুদের কাছেও দুর্গাপুজো এক আবেগ। মা আসতে আর বেশিদিন নেই। পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি কোণায় জোরকদমে চলছে তার প্রস্তুতি। বাংলাদেশেও প্রচুর দুর্গাপুজো হয়। সেখানেও প্রস্তুতি তুঙ্গে। আর এর মাঝেই বাংলাদেশের হিন্দুদের বড় সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার। শারদীয় দুর্গাপুজো উপলক্ষে বালাদেশে বাড়ছে ছুটি। বাংলাদেশে এবছর দুর্গাপুজোর সময় টানা পাঁচ দিন সরকারি অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আদালত বন্ধ থাকবে। মঙ্গলবার ঢাকায় এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারেক রহমানের সরকার।
কবে কবে ছুটি থাকছে?
এবার দুর্গাপুজোয় টানা ৫ দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি আদেশে অনুযায়ী আগামী ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি থাকবে। উল্লেখ্য, এ বছর বাংলাদেশে দুর্গাপুজোয় পূর্বঘোষিত ছুটি ছিল ২০ ও ২১ অক্টোবর (মঙ্গলবার ও বুধবার)। এবার ২২ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার।
এরপর ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন ছুটি ভোগ করবেন সরকারি চাকরিজীবীরা।সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় এবার দুর্গাপুজোর ছুটি টানা ৫ দিনে উপভোগ করা যাবে।
অনুদানও বাড়াল বাংলাদেশ সরকার
ছুটির বৃদ্ধির পাশাপাশি এবার হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দুর্গোৎসব ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসবে অনুদান বাড়িয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রতিবছর দুর্গোৎসব উপলক্ষে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে বরাদ্দ দেওয়া হয়। এবার সেই বরাদ্দের পরিমাণ এক কোটি টাকা বাড়িয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। দুর্গাপুজোর জন্য হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট প্রধানমন্ত্রীর কাছে চার কোটি টাকা অনুদান চেয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ দিচ্ছেন। একইভাবে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানের জন্য বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট দুই কোটি টাকা চেয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী তিন কোটি টাকা বরাদ্দ দিচ্ছেন
প্রধানমন্ত্রীর এই প্রয়াসকে একটি ভিন্ন দৃষ্টান্ত বলে মন্তব্য করেছেন তারেক রহমানের হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃগোষ্ঠীবিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজনকান্তি সরকার। তিনি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এক দিন ছুটি বাড়িয়েছেন, কিন্তু আমরা ছুটি পাচ্ছি পাঁচ দিন। এতে উৎসবটা পরিপূর্ণ ও স্বস্তিদায়ক হবে। আর প্রস্তাবের বেশি অনুদান দেওয়ায় হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান—সব সম্প্রদায়ের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছে। এটা খুবই ইতিবাচক।’