Advertisement

ঢাকায় মন্দিরের পুরোহিতকে চরম শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার, ঠিক কী ঘটেছে?

২৫ বছর বয়সী হিন্দু পুরোহিত ও আইনের ছাত্রকে অপহরণ করে সারারাত আটকে রেখে বর্বর নির্যাতনের অভিযোগ ঢাকায়। জানা গিয়েছে, তাঁর থেকে টাকা হাতাতেই এমনটা করা হয়েছে। ঘটনাটি ঠিক কী?

মন্দিরের পুরোহিতকে নির্যাতনের অভিযোগ মন্দিরের পুরোহিতকে নির্যাতনের অভিযোগ
Aajtak Bangla
  • ঢাকা ,
  • 01 Jul 2026,
  • अपडेटेड 9:47 AM IST
  • ছাত্রকে অপহরণ করে সারারাত নির্যাতন
  • পেশায় পুরোহিত ওই হিন্দু যুবক
  • টাকা হাতিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় হিন্দু পুরোহিতের উপর অকথ্য অত্যাচার। অভিযোগ, ২৫ বছর বয়সী হিন্দু পুরোহিত ও আইনের ছাত্রকে অপহরণ করে সারারাত আটকে রেখে বর্বর নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতনকারীরা তাঁকে পরিবারের থেকে টাকা হাতিয়ে নিতে বাধ্য করে এবং পরে অচেতন অবস্থায় রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যায়। বিডিনিউজ২৪.কম-এর একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

গুরুতর জখম হওয়া ওই যুবকের নাম সুভাষ দেউড়ি। মঙ্গলবার ভোরে বন্ধুরা তাকে রাজধানীর নারিন্দা এলাকার একটি রাস্তা থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করেন। সুভাষের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি ঢাকা সেন্ট্রাল ল কলেজের ছাত্র এবং গত কয়েক মাস ধরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দিরে সহকারী পুরোহিত হিসেবে নিয়মিত ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পরিচালনা করছিলেন।

সুভাষের বোন জয়া দেউড়ি অভিযোগ করেন, সোমবার রাতে একদল অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি তাঁর ভাইকে অপহরণ করে। অপহরণকারীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাঁর উপর শারীরিক নির্যাতন চালায়, তাঁর জিনিসপত্র কেড়ে নেয় এবং আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের ফোন করে টাকা দাবি করতে বাধ্য করে। জয়া বিডিনিউজ২৪.কম-কে বলেন, 'রাত আড়াইটে নাগাদ আমার ভাই কান্নাকাটি করতে করতে আমাকে ফোন করে এবং টাকা পাঠানোর জন্য আকুতি জানায়। সে বলেছিল, টাকা না দিলে ওরা ওকে মেরে ফেলবে।'

জয়া আরও জানান, এর আগে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি তাঁর ফোন রিসিভ করে ভাইয়ের মুক্তির জন্য ৩০ হাজার টাকা দাবি করেছিল। অনেক কষ্টে টাকার ব্যবস্থা করে পরিবারটি অপহরণকারীদের দেওয়া একটি ফোন নম্বরে ২৬ হাজার টাকা পাঠায়। টাকা পাঠানোর পর থেকেই সুভাষের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

সুভাষের রুমমেট দুর্জয় সাহা জানান, সোমবার রাত ৯টা ৩০ মিনিটের দিকে ওয়ারীর ভাড়া ফ্ল্যাটে ফিরে তিনি সুভাষকে পাননি। পরবর্তীতে গভীর রাতে সুভাষের ফোন থেকে তার কাছেও টাকা চেয়ে কল আসে। দুর্জয় বলেন, 'ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে আমরা সুভাষকে অগ্রণী ব্যাঙ্কের সামনের রাস্তায় আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি। তাঁর মাথা, হাত ও পায়ে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাঁর মোবাইল ফোন এবং ওয়ালেটও গায়েব ছিল।'

Advertisement

দুর্জয় আরও জানান, অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকলেও সুভাষ তাঁকে পুরো ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন। দুর্জয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, সুভাষ জানায়, রাত ১০টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত তাঁর উপর অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। হামলাকারীরা তাকে বিবস্ত্র করে ভিডিও রেকর্ড করে এবং সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে পরিবারকে টাকা পাঠাতে বাধ্য করে।'

বিডিনিউজ২৪.কম-এর প্রতিবেদন অনুসারে, সুভাষের পৈতৃক বাড়ি মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলায়। তিনি ঢাকার নারিন্দা এলাকায় দুর্জয়ের সঙ্গে একটি ভাড়া ফ্ল্যাটে থাকতেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মোহাম্মদ ফারুক নিশ্চিত করেছেন, সুভাষকে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে এবং বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে।

অন্যদিকে, ওয়ারী থানার OC মফিজুর রহমান জানিয়েছেন, ঘটনাটি জানার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং পুরো ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement