Advertisement

Bangladesh News: বৃষ্টিতে নেচে ট্রোলড বাংলাদেশের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি, পাল্টা কী করলেন শিক্ষকরা? Video Viral

শিক্ষিকা বিউটি রানি পালের মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ফেসবুক রিল ভিডিও ঘিরে বাংলাদেশে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত আক্রমণ, প্রশাসনিক তদন্ত, সরকারি চাকরিবিধির ব্যাখ্যা এবং শিক্ষকদের ব্যক্তিস্বাধীনতা-সব মিলিয়ে তিনি এখন প্রতিবেশী দেশটিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

 রিল বানিয়ে ট্রোলড বাংলাদেশের বিউটি,পাল্টা নাচলেন শিক্ষিকারা, কী বলছেন তারেকের মন্ত্রী? রিল বানিয়ে ট্রোলড বাংলাদেশের বিউটি,পাল্টা নাচলেন শিক্ষিকারা, কী বলছেন তারেকের মন্ত্রী?
Aajtak Bangla
  • ঢাকা,
  • 29 Jul 2026,
  • अपडेटेड 1:45 PM IST

শিক্ষিকা বিউটি রানি পালের মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ফেসবুক রিল ভিডিও ঘিরে বাংলাদেশে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত আক্রমণ, প্রশাসনিক তদন্ত, সরকারি চাকরিবিধির ব্যাখ্যা এবং শিক্ষকদের ব্যক্তিস্বাধীনতা-সব মিলিয়ে তিনি এখন প্রতিবেশী দেশটিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। 

 প্রসঙ্গত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি  ভাইরাল হয় সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রানি পালের একটি ভিডিও। এতে দেখা যায়, ওই শিক্ষিকা শাড়ি পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে হেঁটে বেড়াচ্ছেন। এর পরপরই ভিডিওটিকে কেন্দ্র করে সমালোচনা ও ট্রল শুরু হয়।

ভিডিও ঘিরে বিতর্ক
ওই ভিডিওতে দেখা যায় সোনালি পাড়ের নীল শাড়ি, কালো ব্লাউজ়, চোখে রোদচশমা পরেছেন বিউটি। মেঘলা আকাশের নীচে মনের আনন্দে গুনগুন করে গান গেয়ে নেচে চলেছেন তিনি। শিক্ষিকাকে এমন রূপে দেখে রে রে করে ওঠে নেটদুনিয়ার একাংশ। প্রসঙ্গত, সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে’ গানের সঙ্গেই নিজের একটি ভিডিয়ো জুড়ে শেয়ার করেছিলেন ওই শিক্ষিকা। তার পরেই শুরু নেটিজ়েনদের একাংশের একের পর এক নেগেটিভ কমেন্ট। তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন ফেসবুক পেজে ট্রল ও সমালোচনার ঘটনায় সাধারণ জিডি করেছেন ওই শিক্ষিকা। জিডির পর সংশ্লিষ্ট ফেসবুক আইডিগুলো শনাক্তে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ‘ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিদিন’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে নেতিবাচক ক্যাপশন দিয়ে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেন আসিফ ইকবাল ইরন নামে এক প্রবাসী তরুণ। ওই তরুণের বিরুদ্ধে সাইবার বুলিং ও সামাজিকভাবে হেনস্থা করার অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষিকা বিউটি পাল।

পাশে সহকর্মীরা
ওই শিক্ষিকার পাশে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশের অনেক মহিলাই। সাইবার বুলিংয়ের প্রতিবাদে অনেক মহিলা একই ধরনের ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করছেন। বিউটির প্রতি এই অন্যায় সমালোচনার মুখে নীরব থাকেননি তার সহকর্মীরাও। ফেসবুকে এই গান ব্যবহার করে হাজার হাজার শিক্ষিকা রিলস পোস্ট করেছেন। এসব ভিডিয়োতে তাদের কর্মস্থল, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ কিংবা ব্যক্তিগত পরিবেশে হাঁটতে দেখা যাচ্ছে। তারা লিখছেন, শিক্ষকতার পেশাগত পরিচয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত অনুভূতি ও সৃজনশীল প্রকাশের স্বাধীনতাও সম্মান পাওয়ার দাবি রাখে।

Advertisement

বিউটি কী বলছেন?
শাড়ি পরে গানের তালে হাঁটার ভিডিও নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ার পর পাশে থেকে সমর্থন দেওয়ায় দেশবাসী, পরিবার এবং সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন শিক্ষিকা বিউটি রাণী পাল। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ফেইসবুকে মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়া দেখার পর তিনি প্রথমে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তবে পরিবার ও সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা তাকে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস জুগিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া এই সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ফেইবুক ভিডিও বার্তায় বিউটি রাণী পাল বলেন, 'দেশবাসী সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ আসলে। তারা আমার প্রতি যে অসীম ভালোবাসা দেখিয়েছে... এক-দুজন মানুষ সব সমাজেই থাকে। আমি সবার প্রতি আসলেই কৃতজ্ঞ। বিশেষ করে, আমার এক সাংবাদিক ভাই আমাকে ভাইরাল করেছিল, কিন্তু বাকি সাংবাদিক ভাইয়েরা যে আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন, এজন্য আমি আসলেই সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। আমাদের মন্ত্রী মহোদয়, প্রধানমন্ত্রী-সবার প্রতি আমি আসলেই কৃতজ্ঞ। কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক এবং সব শ্রেণির পেশাজীবী মানুষ-আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।' একইসঙ্গে সংসদ সদস্যের কাছে তিনি আবেদন জানিয়েছেন, দ্রুত শিক্ষক সুরক্ষা আইন ২০২৬ প্রণয়ন করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে কোনও শিক্ষকই সাইবার বুলিং, মানহানি বা অনলাইন হয়রানির শিকার না হন এবং শিক্ষক সমাজ মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

মুখ খুললেন তারেকের মন্ত্রী
 শিক্ষিকা বিউটি রানি পালের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী  ববি হাজ্জাজ। তিনি জেলা শিক্ষা আধিকারিককে ফোনে নির্দেশ দিয়েছেন, শিক্ষিকা বিউটি রানি পাল যাতে কোনও ধরনের হয়রানির শিকার না হোন তা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি যেন ন্যায় বিচার পান, জেলা শিক্ষা অফিসারকে সেদিকে খেয়াল রাখতে বলেছেন প্রতিমন্ত্রী। বাংলাদেশের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের বক্তব্য, একজন শিক্ষিকার গান গাওয়াকে তিনি অন্যায় মনে করেন না। মন্ত্রীর বক্তব্য, 'যদি অশ্লীলতা না থাকে, তাহলে গান গাওয়া অন্যায়-এটি আমি মানতে রাজি নই। আমি ভিডিওটি দেখিনি। আমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও নেই। না দেখে মন্তব্য করাও ঠিক নয়।’ বাংলাদেশের চাকরিবিধিতে কোথাও ব্যক্তিগত সাংস্কৃতিক ভিডিও প্রকাশে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা, দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন সৃষ্টি, বিভ্রান্তিকর বা আপত্তিকর তথ্য প্রকাশ এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার পরিপন্থি কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশ রয়েছে। ফলে কেবল রিল ভিডিও প্রকাশ করাই আচরণবিধি লঙ্ঘন হিসাবে গণ্য হয় না।

Read more!
Advertisement
Advertisement