
বাংলাদেশের ভোলা জেলায় গণধর্ষণের শিকার হলেন ২৫ বছরের এক হিন্দু তরুণী। পুলিশ সূত্রে খবর, ভোলা জেলার তজুমুদ্দিন এলাকায় কীর্তনে যোগ দিতে গিয়েছিলেন ওই তরুণী। অভিযোগ, সেই সময় কয়েকজন দুষ্কৃতী তাঁকে অপহরণ করে গণধর্ষণ করে। সোমবার সকালে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকদের মতে, তরুণীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলেও তিনি গভীর মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছেন।
এই ঘটনার পরেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার এবং কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। হিন্দু সংগঠনগুলিও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে। তাদের অভিযোগ, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলার ঘটনা বারবার ঘটছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই দোষীরা শাস্তি পাচ্ছে না।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। পুলিশের একটি টিম ইতিমধ্যেই তদন্তে নেমেছে। তদন্তকারীরা আশপাশের এলাকার তথ্য সংগ্রহ করছেন এবং অভিযুক্তদের খোঁজ চালাচ্ছেন।
গত কয়েক মাসে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে লক্ষ্য করে হিংসার অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ী, শ্রমিক এবং সাধারণ নাগরিকদের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ।
ছাত্র আন্দোলনের জেরে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বেড়ে যায়। এরপর সম্প্রতি ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা নেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই সংখ্যালঘুদের উপর হামলার অভিযোগ সামনে আসে।
গত ১৮ ডিসেম্বর দিপু চন্দ্র দাস নামে এক পোশাক কারখানার কর্মীকে উত্তেজিত জনতা মারধর করে হত্যা করে এবং আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। কয়েক দিনের মধ্যেই রাজবাড়ি জেলায় অমৃত মণ্ডল নামে এক ব্যক্তিকে গণপিটুনিতে হত্যা করা হয়। কালীগঞ্জ এলাকায় লিটন চন্দ্র দাস নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীও হামলায় নিহত হন বলে অভিযোগ।